মো. হোসেন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মছজিদ্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে একটি শীর্ষস্থানীয় লেকচার গাইড প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেড় লাখ টাকার আর্থিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে ওই প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ে গাইড বই প্রচার ও বিপণনের সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট গাইড কোম্পানির প্রতিনিধি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাবু রূপম চৌধুরীকে দেড় লাখ টাকার প্রস্তাব দেন। তবে প্রস্তাবটি গ্রহণ না করায় উভয় পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাবু রূপম চৌধুরী বলেন, "আমাকে একটি লেকচার গাইড কোম্পানির পক্ষ থেকে আর্থিক অফার দেওয়া হয়েছিল। আমি সেটি গ্রহণ করিনি।"
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট গাইড কোম্পানির সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ম্যানেজার সাখাওয়াত হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অফার দেওয়ার বিষয়টি সত্য।
ঘটনার বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইসমত আরা বলেন, "বিভিন্ন গাইড কোম্পানি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সৌজন্য কপি দিয়ে থাকে। তবে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে আমার জানা নেই। যদি কেউ অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।"
বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, "কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, গাইড বইকে কেন্দ্র করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিকর। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাইড কোম্পানিগুলোর এমন কর্মকাণ্ড বন্ধে শিক্ষা অধিদপ্তর ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।