খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার কুড়াদিয়া ছড়ায় র্যাফেল ড্র বা লটারি আয়োজনের আড়ালে প্রকাশ্যে জমজমাট জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক শ্রেণির প্রভাবশালী জুয়াড়িদের নেতৃত্বে এ অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
শনিবার রাতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, “মারমা খেংসা একতা যুব সংঘ”-এর ব্যানারে আয়োজিত লটারি ড্রকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। তবে এর আড়ালে চলছে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ জুয়ার আসর। ডাবু, বউ-মাছ, চক্র, ব্যাঙ-টিকটিকিসহ নানা ধরনের জুয়ার বোর্ড বসিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট লটারি কমিটি ও জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ে র্যাফেল ড্র সম্পন্ন না করে রাতভর এসব অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালানো হয়। প্রতিটি ডাবু আসর থেকে প্রায় ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা হচ্ছে। সেখানে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি জুয়ার বোর্ড বসানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে চলমান এসএসসি পরীক্ষার সময় উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স বাজানোর কারণে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। তারা দ্রুত এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের চোখের সামনে দীর্ঘ সময় ধরে এ ধরনের জুয়ার আসর চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ফলে তরুণ সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে এবং এলাকায় সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে।
এ বিষয়ে মং সার্কেল চীফ রাজা সাচিংপ্রু চৌধুরী বলেন, “ডাবুসহ যেকোনো অসামাজিক কর্মকাণ্ডে যদি কোনো কার্বারী বা হেডম্যান জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায় এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে পদচ্যুতও করা হবে।”
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মোরতোজা আলী বলেন, “যারা সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, এ ধরনের অবৈধ জুয়া ও লটারির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”