ক্যহলাচিং মারমা
প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি
নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় ছাত্রীদের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) খাগড়াছড়ির উদ্যোগে ‘নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সনাকের সভাপতি বেলা রাণী দাশ এবং সঞ্চালনা করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) খাগড়াছড়ির এরিয়া কোঅর্ডিনেটর মোহাম্মদ নূরুল আলাল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারিয়া সুলতানা। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন খাগড়াছড়ি জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার কবির। এছাড়া বক্তব্য দেন সনাক সদস্য মর্তুজা পলাশ, টিআইবির ক্লাস্টার কোঅর্ডিনেটর মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন এবং খাগড়াছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।
আলোচনা সভায় মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতার বিভিন্ন ধরন, কারণ, প্রভাব, প্রতিরোধের উপায় এবং বিদ্যমান আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এতে মাদ্রাসার ছাত্রীরা ও টিআইবির ইয়েস সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা, উদ্বেগ ও প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও ফারিয়া সুলতানা বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা, সাহসিকতা এবং দ্রুত অভিযোগ জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শিক্ষার্থীদের যেকোনো ধরনের হয়রানি, সহিংসতা বা বৈষম্যের ঘটনা গোপন না রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিজের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরও শেয়ার করেন।
বক্তারা বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজেরও সম্মিলিত দায়িত্ব। অভিযোগ জানাতে নারীদের উৎসাহিত করা এবং সহায়ক সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি, সহিংসতা ও বৈষম্যসংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে একটি অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং সহিংসতামুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।