কাগজ ডেক্স:
সিরাজগঞ্জ শহরের বুক চিরে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী কাটাখালী নদী হারাতে বসেছে তার অস্তিত্ব। এক সময় এই নদী ছিল শহরের প্রাণ। ব্রিটিশ আমলে নীলকুঠিয়ালদের উদ্যোগে পাট পরিবহনের জন্য খনন করা বড়াল খালটি সময়ের ধারায় রূপ নেয় কাটাখালী নদীতে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রাণবন্ত জলধারা এখন রূপ নিয়েছে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে।
নদীর পানি প্রবাহ নেই বললেই চলে। অধিকাংশ অংশ কচুরিপানা, বর্জ্য ও মাটিতে ভরাট হয়ে গেছে। দখলদারদের দৌরাত্ম্য, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং জনসচেতনতার অভাব—সব মিলিয়ে নদীটি আজ মৃত্যুপ্রায়। ফলে আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে দুর্গন্ধ ও মশা-মাছির উপদ্রব। বাড়ছে ডায়রিয়া, জ্বর, চর্মরোগসহ নানান ধরনের অসুস্থতা।
স্থানীয়রা জানান, এক সময় নদীটিই ছিল পণ্য পরিবহনের অন্যতম পথ। অথচ বর্তমানে নদীটি দখলদারদের কবলে পড়ে তার স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়ে ফেলেছে। কেউ কেউ নদীর পাড় ভরাট করে সেখানে গড়ে তুলেছে স্থাপনা। অপরিকল্পিতভাবে নদীতে ফেলা হচ্ছে আবর্জনা ও বর্জ্য, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আকিকুন নাহার জানান, ‘দূষিত পরিবেশ থেকে নিয়মিতভাবে ছড়াচ্ছে রোগ-জীবাণু। এতে জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে সামনে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।’
সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘কাটাখালী নদীতে অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। নদীটির ঐতিহ্য ও পরিবেশ রক্ষা করতে হলে দ্রুত খনন ও পরিষ্কারের ব্যবস্থা নিতে হবে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান জানান, ‘নদী রক্ষায় স্থানীয়দের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। ভবিষ্যতে একটি প্রকল্পের আওতায় নদীটি পুনর্খননের পরিকল্পনা রয়েছে।’
নদীটি রক্ষায় এখনই প্রয়োজন সমন্বিত পদক্ষেপ। না হলে সিরাজগঞ্জের প্রাচীন ইতিহাস ও পরিবেশ-স্বাস্থ্য—সবই হারিয়ে যাবে অবহেলার অন্ধকারে।