সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত দুই ব্যক্তি ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে মুচলেকা দিয়ে ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসা না করার ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে আয়োজিত এক মাদকবিরোধী সভায় তারা এই অঙ্গীকার করেন।
মুচলেকা প্রদানকারী দুজন হলেন বুরুমদী গ্রামের হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার ছেলে মাছুম ভূঁইয়া এবং মজিবুর রহমানের ছেলে হাবিবুর রহমান পিয়ার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বুরুমদী গ্রামে মাদক ব্যবসা ও সেবনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তরুণদের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, মাদকের অর্থ জোগাড় করতে কেউ কেউ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সচেতনতা তৈরি ও মাদক প্রতিরোধে স্থানীয়ভাবে একটি মাদকবিরোধী সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জামপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইয়ামিন মিয়া। প্রধান অতিথি ছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আল মুজাহিদ মল্লিক।
আলোচনায় উপস্থিত দুই ব্যক্তি নিজেদের অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসা থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেন।
মাছুম ভূঁইয়া বলেন, “এক সময় ভুল করেছি। ভবিষ্যতে আর এ পথে যাব না। সমাজের কল্যাণের জন্য মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিচ্ছি। কখনো যদি আবার এ পথে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়, তাহলে স্বেচ্ছায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করব।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল মুজাহিদ মল্লিক বলেন, “বুরুমদী একটি ঐতিহ্যবাহী ও শিক্ষিত মানুষের গ্রাম। এই গ্রামকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আমরা চাই এ এলাকায় কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকসেবী না থাকুক। এ লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।”
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, “মুচলেকা দিয়ে মাদক ব্যবসা ছাড়ার ঘোষণা ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে শুধু ঘোষণা নয়, তারা সত্যিই এ পথ থেকে সরে এসেছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারলে সমাজ ও রাষ্ট্র উভয়ই উপকৃত হবে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. গিয়াসউদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ ভুঁইয়া, উপজেলা জাসাসের সভাপতি আমির হোসেন, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ফজলুল হক, জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফারুক হোসেন, ইব্রাহিম মিয়া, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সদস্য আলামিন মিয়াসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনে যাদের "মাদক ব্যবসায়ী" বলা হয়েছে, তা স্থানীয় আয়োজক, বক্তা ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ না করাই সাংবাদিকতার উত্তম চর্চা।