শিরোনাম
রামগড়ে মোবাইল কোর্টের অভিযানে বাল্যবিবাহ বন্ধ, বাবাকে জরিমানা দোহারে ড্যাফোডিলস্ হাই স্কুলে ক্ষুদে বিতার্কিকদের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ জীবননগর সীমান্তে ৩ নারী-পুরুষকে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি সোনারগাঁওয়ে নদী, খাসজমি ও মসজিদের জমি ভরাটের অভিযোগ সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে ইউএনও পার্বতীপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন তানোরে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা ময়মনসিংহে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ক্ষেতলালে ডেন্টাল চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন: টেকনোলজিস্টের নামে প্রেসক্রিপশন ও RCT করার অভিযোগ দামুড়হুদায় স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে তরুণীর অনশন,গাজীপুরে একই গার্মেন্টসে চাকুরীকালে বিয়ে
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন

নওগাঁয় ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সাবেক অধ্যক্ষের স্ত্রী হত্যা: মূল অভিযুক্ত নারী গ্রেপ্তার

প্রতিবেদকের নাম / ২৫ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

 

বুলবুল আহম্মেদ (বুলু)

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:

নওগাঁ সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক শহীদুল আলমের স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুটের পর মৃত্যুর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হাসিনা বেগম (৪৫)কে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুট হওয়া স্বর্ণালংকার বিক্রির সঙ্গে জড়িত আরও একজনের সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাত ৯টায় নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে প্রতারণার মাধ্যমে ফাতেমা বেগমকে অচেতন করে তাঁর শরীরে থাকা স্বর্ণালংকার লুট করা হয়। পরে তাঁকে নওগাঁ শহরের নদীপাড় এলাকার একটি ময়লার পট্টিতে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নওগাঁ সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ জুন সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলে সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। শুরু থেকেই ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ সুপার জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপিত ৮৫ থেকে ৮৭টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চোখে চশমা ও মুখে মাস্ক পরিহিত এক নারী একটি আড়াই বছরের শিশুকে সঙ্গে নিয়ে চলাফেরা করছেন। তদন্তকারীরা ওই নারীকে সন্দেহের কেন্দ্রবিন্দুতে এনে অনুসন্ধান চালান।

পরে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় নওহাটা এলাকা থেকে হাসিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন এবং স্বীকার করেন যে দীর্ঘদিন ধরে একই কৌশলে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে পরিচয় গড়ে তুলে তাঁদের অচেতন করে মূল্যবান মালামাল লুট করতেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন উকিলপাড়া এলাকায় টার্গেট খুঁজতে গিয়ে ফাতেমা বেগম ও তাঁর স্বামী অধ্যাপক শহীদুল আলমের সঙ্গে পরিচয় হয় হাসিনার। নিজের আচরণ ও কথাবার্তায় বিশ্বাস অর্জন করে তিনি তাঁদের সঙ্গে স্টারলাইট ফার্মেসিতে যান। পরে কৌশলে ফাতেমা বেগমকে নিজের সঙ্গে রিকশায় তুলে নেন।

তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তের কাছে থাকা একটি জুসে আগে থেকেই গুঁড়ো করে রাখা ‘জিওনিল’ নামের শক্তিশালী ঘুমের ওষুধের ৬ থেকে ৭টি ট্যাবলেট মিশিয়ে ফাতেমা বেগমকে পান করানো হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর তাঁর গলা ও হাত থেকে স্বর্ণালংকার খুলে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে শহরের নদীপাড় এলাকার একটি নির্জন স্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে হাসিনা বেগম স্বীকার করেছেন যে লুট করা স্বর্ণালংকার জোয়ারদার জুয়েলার্সের ইমরান নামে এক ব্যক্তির কাছে মাত্র ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। স্বর্ণালংকার উদ্ধারের পাশাপাশি বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাই চলছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শেখ মো. জিন্নাহ আল মামুন, ডিবির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসিবুল্লাহ হাবিব এবং নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

Share this news as a Photo Card


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
আর্কাইভস
17 July 2026

নওগাঁয় ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সাবেক অধ্যক্ষের স্ত্রী হত্যা: মূল অভিযুক্ত নারী গ্রেপ্তার

www.dainikkagoj.com
17 July 2026

নওগাঁয় ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সাবেক অধ্যক্ষের স্ত্রী হত্যা: মূল অভিযুক্ত নারী গ্রেপ্তার

www.dainikkagoj.com