চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে (চসিক) ঋণমুক্ত, স্বনির্ভর ও আর্থিকভাবে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, নিজস্ব আয় বৃদ্ধি ছাড়া আধুনিক ও টেকসই নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই রাজস্ব আদায়ে গতি এনে চসিককে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে, যা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনায় অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না।
মঙ্গলবার লালদীঘিস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পাবলিক লাইব্রেরি ভবনে রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৫৫৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করে নতুন রেকর্ড গড়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১০০ কোটি ২৪ লাখ টাকা। তিনি বলেন, আন্তরিকতা, জবাবদিহিতা ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই সাফল্য এসেছে। তবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে চসিকের বার্ষিক রাজস্ব এক হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করাই তাঁর লক্ষ্য।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব হলে চসিক প্রকৃত অর্থেই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবে। তখন রাস্তা, ড্রেন, খাল সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য নাগরিক সেবার জন্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমে যাবে এবং নিজস্ব অর্থায়নেই অধিকাংশ উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
বর্ষা মৌসুমে ঝড়-বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে নগরীর সড়ক, নালা-নর্দমা ও খালের ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, এসব অবকাঠামোর দ্রুত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। তাই রাজস্ব আয় বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, রাজস্ব বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র হচ্ছে হোল্ডিং ট্যাক্স। আবাসিক খাতে নাগরিকদের সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কাজ করা হবে। তবে বাণিজ্যিক হোল্ডিং থেকে যথাযথ রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে করের আওতার বাইরে থাকা এবং দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকা আবাসিক হোল্ডিং মালিকদের কর প্রদানে উদ্বুদ্ধ করার নির্দেশ দেন তিনি।
মেয়র রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রতিটি সার্কেলভিত্তিক আবাসিক ও বাণিজ্যিক হোল্ডিংয়ের হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত, বকেয়া চিহ্নিতকরণ এবং তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় জোরদারের নির্দেশ দেন।
তিনি আরও বলেন, গৃহকর, ট্রেড লাইসেন্স, ভূমি হস্তান্তর ফি ও এস্টেট ব্যবস্থাপনাসহ প্রতিটি রাজস্ব খাতে ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে চসিককে একটি শক্তিশালী ও স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব।
সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সাব্বির রহমান সানিসহ রাজস্ব বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিভিন্ন জোনের রাজস্ব আদায়ের অগ্রগতি, বকেয়া আদায়ের অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।