নিজস্ব প্রতিবেদক:
তাড়াশ উপজেলা বিএনপির সদ্য অনুমোদিত ৩ সদস্য বিশিষ্ট মিডিয়া সেলে একজনও সাংবাদিক বা মিডিয়া-সংক্রান্ত পেশাজীবীকে রাখা হয়নি—এমন খবরে স্থানীয় জনগণ ও সচেতন মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
দলীয় গঠনতন্ত্র ও প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, মিডিয়া সেলের মূল দায়িত্ব হলো দলের ভাবমূর্তি রক্ষা, গণমাধ্যমে দলের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়া, প্রেস বিজ্ঞপ্তি তৈরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা পরিচালনা এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। অথচ সদ্য অনুমোদিত এই কমিটিতে মিডিয়া-সংক্রান্ত কাউকে না রেখে পুরোপুরি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দিয়ে কমিটি করা হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক জনগণ বলছেন, সাংবাদিক ছাড়া মিডিয়া সেল কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়বে। মিডিয়া সেল হলো দলের প্রচারণার মূল কেন্দ্রবিন্দু। এখানে সাংবাদিক বা মিডিয়া পেশাজীবী না থাকলে সংবাদ পরিবেশন, গুজব প্রতিরোধ, সঠিক তথ্য প্রচার ও প্রচারণা কার্যক্রম সফলভাবে করা সম্ভব নয়। এ নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার ঝড় উঠেছে।
একজন মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মিডিয়া সেলকে যদি শুধু রাজনৈতিক পদবী দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে এর কোনো প্রয়োজন নেই। সাংবাদিক ছাড়া মিডিয়া সেল অন্ধকারে থাকবে।”
বিএনপির বিভিন্ন শাখার প্রচলিত নিয়ম অনুসারে মিডিয়া সেলে অন্তত একজন সংবাদকর্মী, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট বা মিডিয়া পেশাজীবী অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক। এ কারণে তাড়াশ উপজেলা বিএনপির নতুন মিডিয়া সেল গঠনে গঠনতান্ত্রিক ত্রুটি রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সাধারণ জনগণসহ সচেতন মহল দাবি জানিয়েছেন, বর্তমান মিডিয়া সেল অবিলম্বে বিলুপ্ত করে যোগ্য সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্ত করে নতুন কমিটি গঠন করা হোক। তারা মনে করেন, আগামী দিনে দলের ভাবমূর্তি ও গণসংযোগ জোরদার করতে মিডিয়া সেলকে পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে গঠন করা জরুরি।
উল্লেখ্য, ৩ সদস্যের ওই কমিটি গত ৩১ জুলাই অনুমোদন দেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম খান আলীম।