মোঃ সামছু উদ্দিন লিটন, সেনবাগ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় মাদকদ্রব্যের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকরা। তাঁদের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও বাজার এলাকায় গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের কেনাবেচা ও সেবন অব্যাহত থাকায় যুবসমাজ বিপথে যাচ্ছে। বেকারত্ব, নৈতিক শিক্ষার অভাব এবং অসাধু চক্রের প্রলোভনে অনেক তরুণ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মাদকের কারণে অনেক পরিবারে অশান্তি বাড়ছে। একাধিক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাঁদের সন্তানরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় পরিবারে অস্বাভাবিক আচরণ করছে। কেউ কেউ নেশার অর্থ জোগাড় করতে পরিবারের সদস্যদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনও করছে। সামাজিক মর্যাদার কথা বিবেচনা করে অনেক পরিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে পারছে না।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার নলদিয়া, গোপালপুর শান্তিরহাট, বিজবাগ, ধর্মপুর, বিরাহিমপুর, খাজুরিয়া জাইল্ল্যা পাড়া, আটিয়াবাড়ি, মজিরখিল, চাঁচুয়া, মানিকপুর, নন্দিরপাড়, ঢালুয়া, জামালপুর, নজরপুর, সমাসপুর সীমান্ত এলাকা, চাঁনপুর, প্রতাপপুর সীমান্ত, আহম্মদপুর, জগতপুর সীমান্ত, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো থেকে সরকারি ডিগ্রি কলেজ সড়ক এবং পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তিতুমীর পোল এলাকা থেকে মোহাম্মদপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে রাতের বেলায় মাদক কেনাবেচা ও সেবনের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের দাবি, রাত ৯টা থেকে ফজর পর্যন্ত কিছু এলাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এর প্রভাব হিসেবে চুরি, মোটরসাইকেল, সিএনজি ও অটোরিকশা চুরির ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কাবিলপুর ইউনিয়নের ছমির মুন্সিরহাট এলাকায় কয়েকদিন পরপর যানবাহন চুরির ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানান। এলাকাটি মহাসড়কের কাছাকাছি হওয়ায় অপরাধীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে সক্ষম হয় বলেও তাঁদের দাবি।
গত ৬ জুন উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের সোমবারিয়া বাজারে মাদক বিক্রি প্রতিরোধ করতে গিয়ে মাদক কারবারির ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্র ফাহিম নিহত হওয়ার ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে জনমত আরও জোরালো হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ঘটনার পরও মাদক কারবারিরা বিভিন্ন কৌশলে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে সেনবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযানে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে একাধিক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রহিম সরকার বলেন, “মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। তবে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন এলাকাবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা পেলে মাদক কারবার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।”
স্থানীয়দের মতে, শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই সেনবাগকে মাদকের অভিশাপ থেকে রক্ষা করা সম্ভব।