চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি | মাহমুদ হাসান রনি
চুয়াডাঙ্গার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে অফিসকক্ষে ঢুকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মিতালী খাতুন নামে এক অভিভাবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ফার্মপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার মিতালী খাতুন ফার্মপাড়া এলাকার সামসউর রহমান শুভর স্ত্রী। মামলার প্রধান আসামি সামসউর রহমান শুভ বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সমাবেশ চলাকালে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী কানে হাত দেওয়ায় তাকে শাসন করেন প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী করিম। বিষয়টি জানার পর দুপুরে ওই ছাত্রীর বাবা সামসউর রহমান শুভ ও মা মিতালী খাতুন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার কক্ষে গিয়ে ক্ষুব্ধ আচরণ করেন। একপর্যায়ে শুভ প্রধান শিক্ষিকাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বুধবার রাতেই প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী করিম বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, "মামলার দ্বিতীয় আসামি মিতালী খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামি সামসউর রহমান শুভকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।"
এদিকে, বাংলাদেশ প্রধান শিক্ষক সমিতির নির্বাহী সম্পাদক এবং দর্শনা আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বরূপ দাস এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, একজন প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে ঢুকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।