ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থাপন করা ৪৮টি সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র একটি। দীর্ঘদিন ধরে ৪৭টি ক্যামেরা অচল থাকায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রোগী ও স্বজনদের সুরক্ষা এবং সার্বিক নজরদারি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্যকর নজরদারির অভাবে হাসপাতাল চত্বরে বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ, মাদকসেবীদের আড্ডা এবং নানা অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, ওয়ার্ড, করিডোর ও হাসপাতাল চত্বরের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা জোরদারের উদ্দেশ্যে ৪৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু কারিগরি ত্রুটির কারণে দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ ক্যামেরাই অচল হয়ে পড়ে। ফলে হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা পর্যবেক্ষণ বা প্রয়োজন হলে ফুটেজ সংগ্রহ করাও সম্ভব হচ্ছে না।
গত ৬ জুলাই বিকেলে হাসপাতাল চত্বরে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর সিসিটিভি ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার সকালে দীর্ঘদিন অচল থাকা ক্যামেরাগুলোর মধ্যে একটি সচল করা হলেও বাকি ৪৭টি এখনও অচল রয়েছে। এতে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রোগী ও তাঁদের স্বজন জানান, সন্ধ্যার পর হাসপাতাল চত্বরে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায়। অনেক সময় মাদকসেবীদের আড্ডাও দেখা যায়। এছাড়া উঠতি বয়সী কিছু ছেলে-মেয়ের আপত্তিকর আচরণের অভিযোগও রয়েছে। কার্যকর সিসিটিভি নজরদারি না থাকায় এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসনের সক্ষমতা কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
এক নারী রোগীর স্বজন বলেন, "রাতে হাসপাতালে থাকতে ভয় লাগে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। সব ক্যামেরা সচল থাকলে অন্তত অপরাধ বা বিশৃঙ্খলা ঘটানোর আগে অনেকেই সতর্ক থাকত।"
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রতিদিন শত শত মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই দুর্বলতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। চুরি, হামলা, রোগী বা স্বজনদের সঙ্গে অসদাচরণ কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তা তদন্তেও জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আফম ওবাইদুল ইসলাম বলেন, "সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেগুলো অচল হয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে একটি ক্যামেরা সচল করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি ক্যামেরাগুলোও মেরামত করে চালু করা হবে।"
তবে দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ ক্যামেরা অচল থাকার পরও কেন দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
হাসপাতালে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত সব সিসিটিভি ক্যামেরা সচল, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা জোরদার এবং বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবাপ্রত্যাশীরা।