মো. মাসুদ রানা, বিশেষ প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় সশস্ত্র হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সদস্য বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মধুমঙ্গলপাড়া এলাকায় একদল অস্ত্রধারী ব্রাশফায়ার করলে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। এ ঘটনায় আরও দুইজনকে অস্ত্রধারীরা তুলে নিয়ে গেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি জেএসএসের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে সংঘটিত হয়েছে বলে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে জেএসএসের সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে এমন কোনো ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য তাদের কাছে নেই। তিনি অভ্যন্তরীণ কোন্দল কিংবা কোনো পক্ষের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনাও অস্বীকার করেন।
অন্যদিকে, পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এতে তিনজন নিহত হয়েছেন। তবে নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে, একটি সূত্র দাবি করেছে যে নিহতরা সম্প্রতি নির্বাণপুর কুঠিরে গিয়ে ‘শ্রমণ’ হিসেবে দীক্ষা নিয়েছিলেন। পরে তারা ধর্মীয় পোশাক ত্যাগ করে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলে তাদের বহনকারী টমটম মধুমঙ্গলপাড়া এলাকায় আটকে হামলা চালানো হয়। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর সংগঠক অংগ্য মারমা বলেন, ইউপিডিএফের সঙ্গে কোনো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি। তার দাবি, এটি জেএসএসের অভ্যন্তরীণ বিরোধের ফল এবং এ ঘটনার সঙ্গে ইউপিডিএফের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামে জেএসএস (সন্তু লারমা) ও ইউপিডিএফের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত, গোলাগুলি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে আসছে। বিশেষ করে খাগড়াছড়ির পানছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের সংঘর্ষ প্রায়ই উদ্বেগের কারণ হয়ে