ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় একটি সেতুর মুখ মাটি দিয়ে ভরাট করে পানি চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে সেতুর দুই পাশের প্রায় ৫০০ বিঘা আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা না হলে চলতি মৌসুমে আমনসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে উপজেলার রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দক্ষিণ পাশে রায়গঞ্জ-আটঘোরিয়া সড়কের ওপর নির্মিত সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেতুর এক পাশের মুখে মাটি ফেলে ভরাট করা হয়েছে। এতে পানি চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মৃত মোজাহের আলীর ছেলে গোলাম রব্বানী এবং আলতাফ হোসেনের ছেলে শহিদুল ইসলাম নিজেদের স্বার্থে সেতুর মুখে মাটি ভরাট করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই সেতুর নিচ দিয়ে আশপাশের বিল ও কৃষিজমির বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হয়ে আসছিল। কিন্তু সেতুর মুখে মাটি ফেলে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করায় ভারী বৃষ্টিপাত হলে বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, সেতুর দুই পাশের প্রায় ৫০০ বিঘা আবাদি জমি এই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে শতাধিক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে চলমান আমন মৌসুমে কৃষি উৎপাদনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে সেতুর মুখে মাটি ভরাটের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমরা একটি পাইপ বসিয়েছি। আগামীকাল আরও একটি পাইপ বসাবো।” তবে সেতুর মুখ ভরাটের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
অপর অভিযুক্ত গোলাম রব্বানীর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। খুব শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করা হবে। তদন্তে কেউ জলাবদ্ধতা সৃষ্টির জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকলে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ব্যাপক কৃষি ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই বৃহত্তর জনস্বার্থে দ্রুত সেতুর মুখ থেকে মাটি অপসারণ করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।