ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার মোট ১৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে ১১২টিতেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। দীর্ঘদিন ধরে এসব পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলো ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি, শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত কর্মচাপ এবং শিক্ষার গুণগত মান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, অবসর, পদোন্নতি, বদলি এবং দীর্ঘদিন ধরে নতুন নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত থাকায় এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদেরই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁদের নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হওয়ায় তাঁরা দ্বৈত দায়িত্বের চাপে রয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের সার্বিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক-কর্মচারীদের তদারকি, শিক্ষার মানোন্নয়ন, সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় এসব কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত গতি আসছে না।
রায়গঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি সুলতান মাহমুদ প্রদীপ বলেন, "প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে তাঁদের পাঠদানের সময় কমে যাচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের শেখার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক বিদ্যালয়ে নিয়মিত একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।"
গ্রামপাংগাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তামান্না শারমীন নাজমা বলেন, "ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে অফিসের নথিপত্র সংরক্ষণ, সরকারি চিঠিপত্রের জবাব, বিভিন্ন সভা-সমন্বয় এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদান—সবকিছু একসঙ্গে পরিচালনা করছেন। এতে তাঁদের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ বাড়ছে। একজন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক থাকলে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম আরও সুষ্ঠু ও গতিশীলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতো।"
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, "প্রধান শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। অবসর, পদোন্নতি এবং দীর্ঘ সময় নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার ১৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে ১১২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। দ্রুত নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু হলে শূন্য পদগুলো পূরণ হবে এবং বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বাভাবিক গতি ফিরে আসবে।"
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করতে হলে দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় প্রশাসনিক দুর্বলতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।