ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার একটি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ের কার্যালয়ে মদ্যপ অবস্থায় দেখা যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবার সকালে শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের নুকালী বহুপার্শ্বিক উচ্চবিদ্যালয়ে ঘটে। ওই সময় বিদ্যালয় কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা চলমান ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন নিজ কার্যালয়ে মদ্যপ অবস্থায় অসংলগ্ন আচরণ করছিলেন। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ভাইরাল ভিডিওতে প্রধান শিক্ষককে অসংলগ্ন মন্তব্য করতে এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিদ্যালয়ে এসে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যান।
ঘটনার পর শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের সহকারী শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, "আমি ওই সময় সাময়িক পরীক্ষার দায়িত্বে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলায় ছিলাম। প্রধান শিক্ষকের কক্ষে কী ঘটেছে, তা সরাসরি দেখিনি। তবে একটি স্বনামধন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজের কার্যালয়ে বসে মদ্যপান করেছেন—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।"
শুক্রবার এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "মানসিক অশান্তির কারণে মদ পান করেছিলাম। তখন আমার মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল না। কী বলেছি বা কী করেছি, তা মনে নেই। তবে মদ্যপ অবস্থায় বিদ্যালয়ে আসা আমার ভুল হয়েছে।"
শাহজাদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাইদুল ইসলাম শেখ জানান, প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নজরে আসার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।