মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি -কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের কালা মসজিদ সড়ক নির্মাণ কাজে নির্মানের ইট, খোয়া ব্যবহার করে ব্যাপক অনিয়ম ও দূনীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে শিডিউলে থাকা সত্বেও কার্পেটিং ছাড়া বরাদ্দের চ‚ড়ান্ত বিল উত্তোলন করে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে, এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী কামরুল আহসান সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সাথে যোগসাজস করে বরাদ্দের টাকা লুটে নেয়।
জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চরজাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের কালা মসজিদ সড়ক নির্মাণ কাজে ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী কামরুল আহসান কাজ তদারকির দায়িত্ব পান। কিন্তু সড়কে ব্যবহৃত সামগ্রী ছিলো অতি নির্মানের। তৈরিকৃত মেকাডম রোলারের চাপে মাটিতে মিশে গেছে। একইভাবে নি¤œমানের কাজের অভিযোগ ওঠেছে, করুনানগর বাজার রোড, চরলরেঞ্চ ইউনিয়নের বাঁশতলা রোড ও চরফলকন জাজিরা এলাকার ডা. ওবায়দুল হক সড়ক নির্মানেও ব্যাপক অনিয়ম ও নয়ছয় করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর পক্ষে মাওলানা মোঃ আনোয়ার হোসাইন বলেন, চরলরেঞ্চ ইউনিয়নের বাঁশতলা রোডটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক। নামমাত্র কাজ দেখিয়ে নির্মানের ইট ও খোয়া দিয়ে নির্মানের নামে সরকারি বরাদ্দের টাকা লুটে নিয়েছে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে এলজিইডির বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতির প্রসঙ্গে কমলনগর উপজেলা নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব মোঃ শরীফুল ইসলাম বলেন, জুন ক্লোজিংয়ের অজুহাতে এখানকার প্রতিটি প্রকল্পে তড়িগড়ি অনিযম করা হয়। আমরা সকল প্রকল্পের তদন্ত সাপেক্ষ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঠিক বাস্তবায়ন দাবি করছি।
এদিকে কমলনগর এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী কামরুল আহসান সড়কগুলোয় কার্পেটিং না করা প্রসংগে বলেন, পর্যাপ্ত ফান্ড না থাকায় কার্পেটিং করা হয়নি। পরবর্তীতে ফান্ড প্রাপ্তি সাপেক্ষ তা সম্পন্ন করা হবে।
অন্যদিকে প্রকৌশলী আবদুল কাদের মোজাহিদ জানান ভিন্ন কথা। বর্ষা চলে আসার কারণে তড়িগড়ি করে মেকাডম সম্পন্ন করা হয়। এসময় জুন ক্লোজিংয়ের একটা বিষয় ছিলো। বর্ষা মওসূম শেষে অবশিষ্ট কাজ সমাপ্তিতে ঠিকাদার বিল পাবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রাহাত উজ-জামান বলেন, সড়কগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশনা প্রদান করা হবে।