মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি -কমলনগর (লক্ষীপুর) প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে প্রায় ৩ কোটি টাকার সরকারী জায়গা বেদখল করেছেন স্থানীয় এক শ্রেণির প্রভাবশালী লোক। পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড সুজন গ্রামের আশ্রম বাজারের এমন দখল কান্ড দেখা গেছে। এনিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল উপজেলা ভূমি অফিসে এসে দখলবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও গণস্বাক্ষর দিলে উল্টো উপজেলা সার্ভেয়ার আবদুল কাদের প্রতিবাদ কারীদের উপর চড়াও হন। এঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এসময়ের উজানের ঢেউয়ের জারিরদোনা খালের শাখাটি এখন ভূমি দখলবাজদের কব্জায়। দীর্ঘদিন থেকে ধাপে ধাপে দখলকান্ড চলে আসছে। গত ৫ আগস্টের পর থেকে বন্ধ থাকলেও উপজেলা সার্ভেয়ারের রহস্যজনকভাবে দখলদারদের পক্ষ নেয়।
স্থানীয় প্রতিবাদকারী ডা: মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, সরকারী জায়গা বেদখল করে আ.লীগের আমলে প্রভাবশালীরা দোকান পাট করেছে। ফলে আমাদের আশ্রমের রাস্তাটি সরু হয়ে গেছে। এতে সড়কে তীব্র যানজট লেগে থাকে। তিনি আরও বলেন, জারিরদোনা ব্রীজের গোড়ায় সরকারী জায়গায় প্রায় ২০ থেকে ২৫টি মুদি দোকানসহ বিভিন্ন দোকান গড়ে উঠে। এখানে আশ্রম বাজারের নেই একটি গণশৌচাগার। সরকারী জায়গা দখল করায় আমরা একটি পাকা টয়লেট দেওয়ার মত জায়গা পাচ্ছি না। এছাড়া আমরা আশ্রমবাসীরা উপজেলা সার্ভেয়ারের কাছে দখলবাজদের বিষয়ে কথা বলতে গেলে তিনি আমাদের উপর তেলে- বেগুনে গরম হন।
সরকারী জায়গা দখল করলে আপনার সমস্যা কোথায়? সার্ভেয়ারের এমন মন্তব্যে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সরকারী জারিরদোনা শাখা খালের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ জমি বেদখলের ঘটনায় কোন ভূমিকা নেই উপজেলা ভূমি অফিসের।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ উপজেলা সার্ভেয়ার প্রতিটি দোকান ঘরে এসে উচ্ছেদ নোটিশ করবে বলে ভয়ভীতি দেখায়। পরে অফিসের এক লোক মারফতে ওই ব্যবসায়ীদের সাথে মোটা অংকের রফা হয়। তারা বলেন- একদিকে সরকারী জায়গা বেদখল অন্যদিকে সরকারের রক্ষক হয়ে বক্ষকের কাজ করেন তিনি।
এবিষয়ে উপজেলা সার্ভেয়ার আবদুল কাদের বলেন, সরকারী জায়গা উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। জারিরাদোনা শাখা খালের দুপাশে গড়ে উঠা দোকান পাটের বিষয়টি শুনেছি। সেখানে সরজমিনে এখনও যাওয়ার সুযোগ হয় নাই। লোকজন এসেছেন। তাদেরকে সুন্দর পরামর্শ দিয়েছি। আমরা দ্রত জারিরদোনা শাখা খালের দখল বিষয়ে কাজ করবো। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে অভিযোগ করলে কিছু করার নাই।
রামগতি উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ঝন্টু বিকাশ চাকমা বলেন, জারিরদোনা খাল বা ব্রীজের গোড়ায় সরকারী জায়গা দখলের বিষয়টি আমি জানি না। দ্রত এবিষয়ে তহশিলদারও সার্ভেয়ারকে পাঠাবো। তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারী জায়গায় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।