মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভায় বসতঘরের ছাদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নারী ও নির্মাণ শ্রমিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে রামগতি পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সুজন গ্রামে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, একই বংশের দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
জানা যায়, রামগতি পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সুজন গ্রামের ১০০৯৫-৯৬ দাগভুক্ত জমিতে আব্দুল গনি খাঁর ছেলে মোহাম্মদ রুবেল খাঁ প্রায় পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। সম্প্রতি তিনি টিনের চালা পরিবর্তন করে পাকা ছাদ নির্মাণের উদ্যোগ নিলে পাশের বাড়ির শাহাবুদ্দিন খাঁ ও তার ছোট ভাই মোছলে উদ্দিন খাঁ ওই জমির মালিকানা দাবি করে নির্মাণকাজে বাধা দেন।
এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, স্থানীয় সালিশে শাহাবুদ্দিন পক্ষের কাগজপত্র জাল প্রমাণিত হয়। পরে শাহাবুদ্দিন ও তার লোকজন গত ১০ জুন ও ১৮ জুন লক্ষ্মীপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুটি পৃথক মিস মামলা দায়ের করলেও শুনানি শেষে আদালত মামলাগুলো খারিজ করে দেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২৪ জুন পুনরায় আদালতে মামলা দায়েরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর শাহাবুদ্দিন খাঁ ও মোছলে উদ্দিনের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রুবেল খাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বসতঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং ঘরের বিভিন্ন মালামাল লুটপাট করে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ তৈয়ব আলী (৬২), তার ছেলে ইয়াহিয়া খান (২৭), স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৫০), তানিয়া, মোহাম্মদ আশিক খান, মো. রাসেল (৩০), রুবেল, রাকিব, মাসুদা বেগম, আরজু খানম, আয়েশা, আশিক খাঁ (৩০), মানসিক ভারসাম্যহীন রাবেয়া খাতুন (৫৫) এবং নির্মাণকাজে নিয়োজিত দুই শ্রমিকসহ মোট অন্তত ২০ জন।
আহতদের প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুতর আহত তৈয়ব আলী ও তার ছেলে ইয়াহিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। অন্যদের মধ্যে সাতজন নোয়াখালীতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং বাকিরা স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে শাহাবুদ্দিন খাঁ বলেন, "আব্দুল গনি ও তার ছেলেরা আমাদের জমিতে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা করছিল। আমরা বাধা দিতে গেলে উল্টো আমাদের ওপর হামলা করা হয়। এতে আমার ছেলে ও চাচাতো ভাইসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।"
এ বিষয়ে রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, "মারামারির ঘটনার খবর আমরা পেয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এদিকে, ভুক্তভোগী পরিবার হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।