রাশেদুজ্জামান রিমন, কুষ্টিয়া
“জুলাই আন্দোলন” নিয়ে পুলিশের এক সদস্যের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়া। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাত ৯টার দিকে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়া জেলা শাখা।
বিক্ষোভকারীরা পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে কার্যালয়ের সামনের সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় কর্মসূচি চলে রাত পর্যন্ত। আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা সংহতি প্রকাশ করে অংশগ্রহণ করেন।
আপ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম নেতা সুলতান মারুফ তালহা বলেন, “জুলাই আন্দোলনের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই পুলিশ সদস্যের এমন মন্তব্য গভীর হতাশার। আমরা অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রাব্বি জানান, “জুলাই আন্দোলন নিয়ে কোনো অবমাননাকর মন্তব্য বরদাশত করা হবে না। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, ট্রাফিকে কর্মরত কনস্টেবল ফারজুল ইসলামের ছুটি বাতিল করে তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়,“জুলাই অভ্যুত্থানবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী মন্তব্য ফেসবুকে পোস্ট না করার বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের প্রতিটি ইউনিটে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রসঙ্গত ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সারাদেশে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে একটি প্রতিবাদী আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, যা “জুলাই আন্দোলন” নামে পরিচিত। সেই আন্দোলনের পটভূমিতে এই বছরের ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।