পলাশ পাল, জেলা প্রতিনিধি | নেত্রকোণা
নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে ইমরান হোসেন রিফাত (১৯) নামে এক যুবককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে উপজেলার হিরণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগে জানা যায়, টিফিন বিরতির সময় বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী সহপাঠীদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের সামনের একটি দোকানে যায়। এ সময় সেখানে অবস্থানরত ইমরান হোসেন রিফাত হঠাৎ ওই ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং তাকে জড়িয়ে ধরে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি দেখে স্থানীয় দোকানদার, পথচারী ও আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে অভিযুক্তকে আটক করেন। পরে শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়।
খবর পেয়ে শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সেন্টু মিয়া সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে নিরাপত্তায় নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
পরবর্তীতে পূর্বধলা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসনিম জাহান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। শুনানি শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত ইমরান হোসেন রিফাতকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, "ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত যুবককে পুলিশি প্রহরায় পূর্বধলা থানায় আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি থানা হাজতে রয়েছেন। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হবে।"
স্থানীয় বাসিন্দারা বিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণেরও সচেতন ভূমিকা প্রয়োজন।