মো. মাসুদ রানা, বিশেষ প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির রামগড়ে কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদার এবং কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে “প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)” প্রকল্পের আওতায় পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে রামগড় উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে এ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম এবং সঞ্চালনা করেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা গোলাম সাকলাইন।
কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সুমন মিয়া। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক উংকার বিশ্বাস।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্টনার প্রকল্পের রাঙামাটি জেলার সিনিয়র মনিটরিং অফিসার মো. শাহরিয়াজ বিশ্বাস, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাফেজ আহমেদ ভুইয়া, রামগড় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জসিম, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন, উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক মো. হারুনুর রশীদ, রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজির আলম, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন এবং রামগড় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন লাভলু।
বক্তারা বলেন, কৃষি খাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, জলবায়ু সহনশীল কৃষি পদ্ধতি এবং পুষ্টি-সংবেদনশীল উৎপাদন ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। তারা মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় কৃষি বিষয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে ছিল সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা, জৈব সার ব্যবহার, পুষ্টিকর ফসল চাষ, বাজারজাতকরণ কৌশল এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা উন্নয়ন।
এছাড়াও রামগড় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক-কৃষাণী, উদ্যোক্তা, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা এতে অংশগ্রহণ করেন।
অংশগ্রহণকারীরা কর্মশালাটিকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও ফলপ্রসূ বলে অভিহিত করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।