প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার
বিশেষ প্রতিনিধি, পাবনা
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় চলতি বোরো/২০২৬ মৌসুমে সরকারি খাদ্যগুদামের ধান সংগ্রহ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন করেছে খাদ্য বিভাগ।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ মৌসুমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। উপজেলা কৃষি অফিসের তালিকাভুক্ত কৃষকদের মধ্য থেকে “আগে আসলে আগে বিক্রি” নীতিতে ধান সংগ্রহ করা হয়।
কৃষি কার্ড ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে নিবন্ধিত কৃষকদের কাছ থেকে ধান গ্রহণের পর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমে আসে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পান বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৭০০ নিবন্ধিত কৃষকের কৃষি কার্ড ও হিসাব রয়েছে। ধান বিক্রি করা অনেক কৃষক জানান, বাজারমূল্যের তুলনায় সরকারি দর বেশি থাকায় তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন এবং উৎপাদন খরচ মিটিয়ে অতিরিক্ত আয় করতে পেরে সন্তুষ্ট।
ভাঙ্গুড়া খাদ্যগুদামের উপ-পরিদর্শক নিরঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাগজপত্র যাচাই করে শুধুমাত্র প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তাদের ব্যাংক হিসাবেই মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে।
ভাঙ্গুড়া এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম জানান, গত ৩ মে থেকে সারাদেশে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়। ভাঙ্গুড়ায় নির্ধারিত ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান ইতোমধ্যে সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। বাজারে দামের ওঠানামার মধ্যেও কৃষকরা প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা কৃষ্ণপদ বর্ম্মন বলেন, ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সব ধরনের যাচাই-বাছাই শেষে বিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী মৌসুমেও এভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ অব্যাহত থাকবে। এতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং দেশের খাদ্যশস্য সংগ্রহ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।