মোঃ হাসানুর জামান বাবু, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, খাল পুনরুদ্ধার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত নগরীতে পরিণত করা হবে।
বুধবার টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে চসিকের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা কমিটির অষ্টম সাধারণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র জানান, সম্প্রতি টানা কয়েক ঘণ্টার ভারী বর্ষণের পরও নগরীর অধিকাংশ এলাকায় পানি দ্রুত নেমে গেছে। কাতালগঞ্জে চলমান খাল সংস্কারকাজের কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা হলেও বৃষ্টি থামার আধা ঘণ্টার মধ্যেই পানি সরে যায়। তিনি দাবি করেন, গত এক বছরে নগরীতে জলাবদ্ধতা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমেছে।
তিনি বলেন, বিদ্যমান প্রকল্পের বাইরে আরও ৪০টির বেশি খাল পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের জন্য নতুন উন্নয়ন প্রকল্প (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করে কোথায়, কেন এবং কতক্ষণ পানি জমে থাকে তা শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, যানজট, কিশোর গ্যাং ও সামাজিক অপরাধ নিয়েও আলোচনা হয়। মেয়র জানান, নতুন ল্যান্ডফিল স্থাপনের জন্য প্রায় ১০০ কানি জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত বিটিআই লার্ভিসাইড ব্যবহারের ফলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, কিশোর গ্যাং, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করা হবে। পাশাপাশি ৪১টি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ উন্নয়ন, ওয়াকওয়ে, ফ্লাডলাইট, ডে-কেয়ার সেন্টার, ভবঘুরে ও মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং প্রবীণদের জন্য ওল্ড এজ হোম প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন অবৈধ দখলদার ও ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত জরিমানা এবং কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সড়ক বিভাজকে বৃক্ষরোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণে নতুন পরিকল্পনার প্রস্তাব দেন।
মেয়র মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসংলগ্ন এলাকাকে 'জিরো ট্রাফিক জোন' ঘোষণার পরিকল্পনার কথাও জানান। এছাড়া আগামী ২৭ জুন জাতীয় ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইনে চট্টগ্রাম নগরীতে ৫ লাখ ৬৪ হাজার শিশুকে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।