মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি–কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে লোহার খন্তি (সাবল) দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম এবং তার সাত বছর বয়সী শিশু কন্যাকে গলাটিপে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত ১০ জুন বিকেলে উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার বাসিন্দা নাজমা বেগম ও ভুক্তভোগী শাফিয়া বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন উঠানে কাপড় শুকানোকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নাজমা বেগম ঘর থেকে লোহার খন্তি এনে শাফিয়া বেগমের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন বলে জানা গেছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, আহত গৃহবধূকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যস্ততার মধ্যে নাজমা বেগম ভুক্তভোগীর সাত বছর বয়সী শিশু কন্যাকে উঠান থেকে টেনে ঘরে নিয়ে গিয়ে গলাটিপে হত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে শিশুটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার সময় শাফিয়া বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলে এলাকাবাসী ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্ত নাজমা বেগম তার ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন এবং পরে শিশু নির্যাতনের চেষ্টা করেন বলে দাবি করেন তারা।
আহত গৃহবধূর স্বামী ইটভাটা শ্রমিক আবুল কাশেম জানান, তার স্ত্রীর মাথায় ৮টি সেলাই লেগেছে এবং তিনি একাধিকবার অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া প্রয়োজন হলেও আর্থিক সংকটে তা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাজমা বেগম ও তার স্বামী আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাদের বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ পাওয়া গেছে বলেও জানা গেছে।
কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল আলম বলেন, “এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”