মাহমুদ হাসান রনি, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকি গ্রামের যুবক রাফি (২০) অপহরণের নয় দিন পর একটি খাল থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকি গ্রামের প্রবাসী আকতার সর্দারের একমাত্র ছেলে রাফি গত ৫ জুন শুক্রবার রাত ১০টার দিকে একটি ফোনকল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ফোন করে প্রথমে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে সেই দাবি কমিয়ে ৮ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয়। বিষয়টি জানিয়ে পরিবারের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন এবং ঘোলদাড়ি পুলিশ ক্যাম্প, আলমডাঙ্গা থানা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেন। তবে দীর্ঘ নয় দিনেও রাফিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর মাঠসংলগ্ন একটি খালে মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে মরদেহটি রাফির বলে শনাক্ত করেন।
স্থানীয়দের দাবি, মরদেহের বিভিন্ন অংশ ক্ষতবিক্ষত ছিল। দীর্ঘ সময় খোলা স্থানে পড়ে থাকায় শিয়াল-কুকুরের আক্রমণে শরীরের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিহতের পরিবার দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছে।