হৃদয় রায়হান, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে প্রেম, আর সেই প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে ছুটে আসেন এক যুবক। তবে প্রেমিকার বয়স বিয়ের উপযুক্ত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই দেশে ফিরে যেতে হয়েছে তাকে।
ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নে। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের হস্তক্ষেপে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে চীনা নাগরিক এম এ হাইশান (৩৯) ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এর আগে বুধবার বিকেলে তিনি তার প্রেমিকার বাড়িতে পৌঁছান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত মাস আগে একটি অনলাইন মিউজিক গ্রুপে কুমারখালীর এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর সঙ্গে হাইশানের পরিচয় হয়। নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের উদ্দেশ্যে চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন হাইশান।
চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক জানান, চীনা যুবকটি বুধবার ঢাকায় পৌঁছানোর পর মেয়েটির স্বজনরা তাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেয়েটির বয়স মাত্র ১৬ বছর, যা বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিয়ের জন্য উপযুক্ত নয়।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয় এবং চীনা যুবককে আইনগত বিষয়গুলো বুঝিয়ে মেয়েটির স্বজনদের সঙ্গে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য সে বিদ্যালয়ে গেছে। এ সময় চীনা যুবকের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বজন ও পুলিশের সদস্যরা গুগল ট্রান্সলেটরের মাধ্যমে কথা বলেন। বিষয়টি দেখতে বাড়ির আশপাশে উৎসুক জনতার ভিড়ও লক্ষ্য করা যায়। পরে দুপুরের দিকে মেয়েটি বাড়িতে ফিরে আসে এবং কিছুক্ষণ পর একটি ভ্যানে করে হাইশান এলাকা ত্যাগ করেন।
মেয়েটির মা বলেন, “আমার মেয়ের বয়স এখনও বিয়ের উপযুক্ত হয়নি। ভুল বোঝাবুঝির কারণে বিদেশি নাগরিকটি বাড়িতে এসেছিলেন। আমরা যথাসাধ্য আপ্যায়ন করেছি। চেয়ারম্যান, মেম্বার ও পুলিশের সহযোগিতায় তাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।”
ওই কিশোরী জানায়, একটি মিউজিক গ্রুপে কয়েক মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল। ভাষাগত কারণে তাদের মধ্যে খুব বেশি যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। তবে হাইশান বিয়ের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসেছিলেন। বয়সজনিত কারণে বিয়ে না হওয়ায় ভবিষ্যতে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ভাবার কথা জানান তিনি।
বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে না পারলেও গুগল ট্রান্সলেটরের সাহায্যে হাইশান বলেন, “আমি চীনের গানসু প্রদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে এসে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি। আমি দেশে ফিরে যাচ্ছি। ভবিষ্যতে সুযোগ হলে আবার আসব।”
কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, “একজন চীনা নাগরিক বিয়ের উদ্দেশ্যে কুমারখালীতে এসেছিলেন। কিন্তু মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আইনগত বিষয় বিবেচনায় তাকে বুঝিয়ে নিজ দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”