মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:
জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে ‘নাগরিক বাজেট’ এবং জনকল্যাণমুখী বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সংরক্ষিত নারী আসন-২৪ এর সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন। তিনি বলেছেন, সরকারের প্রণীত এ বাজেট দেশের সাধারণ মানুষের চাহিদা, প্রত্যাশা এবং বাস্তব জীবনসংগ্রামের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। জনগণের মনের ভাষা বুঝেই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট পাস হওয়ার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর ওই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে এমপি বীথিকা বিনতে হোসাইন লিখেন, “নাগরিক বাজেট। জনগণের নির্বাচিত সরকার আজ যে বাজেট পাস করেছে, তা যেন বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মনের ভাষা বুঝে তৈরি করা। দাম কমবে, সুযোগ বাড়বে।”
তিনি বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, চিকিৎসা সেবার সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তরুণদের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকার বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং নতুন কর্মসংস্থান খাত সম্প্রসারণের মাধ্যমে তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষি, শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, নারী উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্যও বাজেটে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এতে করে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির চাপ কমে আসবে এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “এই বাজেট বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সৃষ্টি হবে এবং উন্নয়নের সুফল সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে।”
স্ট্যাটাসে তিনি আরও লিখেন, “জন-জীবনে আসবে স্বস্তির নিঃশ্বাস, ইনশাআল্লাহ।”
জাতীয় বাজেটকে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং উন্নয়নমুখী চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে এবারের বাজেটে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, কৃষি এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ভারসাম্যপূর্ণ বরাদ্দ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি সরকারপ্রধানের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় বাজেট নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের এমন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও বাজেট বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে বাজেটের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়ন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের ওপর।
স্থানীয় জনগণও বাজেটের ঘোষিত সুবিধাগুলো বাস্তবে প্রতিফলিত হবে বলে আশা করছেন। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা মনে করছেন।