মোঃ হাচান আল মামুন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:
দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় দরিদ্র ও চিকিৎসাবঞ্চিত চক্ষুরোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) দীঘিনালা সেনা জোন সদর প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ ক্যাম্পে শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। চট্টগ্রাম থেকে আগত অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকরা রোগীদের চোখ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসা দেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, Rotary Club of Chittagong Port City এবং Lions Charitable Eye Hospital-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ চিকিৎসা ক্যাম্পে ছানি, দৃষ্টিশক্তি হ্রাসসহ বিভিন্ন জটিল চক্ষুরোগে আক্রান্ত রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে যেসব রোগীর অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্বাচিত রোগীদের চট্টগ্রামে নিয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অপারেশন, ওষুধ সরবরাহ এবং অপারেশন-পরবর্তী ফলোআপ চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে।
পাহাড়ি অঞ্চলের বহু মানুষ অর্থনৈতিক সংকট, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের দূরত্বের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। বিশেষ করে চক্ষুরোগের ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেকেই ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েন। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দীঘিনালা সেনা জোন দীর্ঘদিন ধরে মানবিক বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় অসহায় চক্ষুরোগীদের খুঁজে বের করে তাদের চিকিৎসার আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
দীঘিনালা সেনা জোন সূত্রে জানা যায়, এর আগে একই কর্মসূচির আওতায় ৬৮ জন চক্ষুরোগীর সফলভাবে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়েছে। অপারেশনের পর তারা সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে গেছেন। অনেকে আবার নতুন করে কর্মজীবনে যুক্ত হতে পেরেছেন। ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে এ উদ্যোগ ব্যাপক আস্থা ও ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসাসেবা পাওয়া মানুষদের অভিজ্ঞতা অন্যদেরও উৎসাহিত করছে চিকিৎসা গ্রহণে।
দীঘিনালা সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় নয়, মানবিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। অনেকেই জানান, দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগলেও অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারেননি। বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও অপারেশনের সুযোগ পেয়ে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। তাদের ভাষায়, “এ উদ্যোগ আমাদের জীবনে নতুন আলো দেখার সুযোগ এনে দিয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শুধু রোগীদের চিকিৎসাই নিশ্চিত করছে না, বরং মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবিক সহমর্মিতারও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে পরিচালিত হলে এলাকার অসংখ্য অসহায় মানুষ উপকৃত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।