মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা সুসংহত করার লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এর অংশ হিসেবে সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির পরীক্ষিত নেত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইনকে নিজ এলাকা লক্ষ্মীপুরের পাশাপাশি সাতক্ষীরা জেলার চারটি সংসদীয় আসনের অতিরিক্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি এখন থেকে সাতক্ষীরা-১, সাতক্ষীরা-২, সাতক্ষীরা-৩ ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাংগঠনিক কার্যক্রম, তৃণমূল পর্যায়ের দলীয় কর্মকাণ্ড এবং উন্নয়নমূলক বিষয়সমূহ নিবিড়ভাবে তদারকি করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত নির্বাচনগুলোতে সাতক্ষীরার বিভিন্ন আসনে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, সমন্বয়হীনতা এবং সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে বিএনপি নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি উত্তরণ, তৃণমূলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দলকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বীথিকা বিনতে হোসাইনের ওপর এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা বীথিকা বিনতে হোসাইন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি প্রয়াত স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি শফিউল বারী বাবুর সহধর্মিণী। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ‘অর্পণ আলোক’ নামের মানবিক সংগঠনের মাধ্যমে নির্যাতিত নেতাকর্মী, তাদের পরিবার এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসন, তৃণমূল পর্যায়ের কার্যক্রমের সরাসরি তদারকি এবং বিএনপির ঘোষিত ‘৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচি’ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবেন।
দায়িত্ব পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বীথিকা বিনতে হোসাইন বলেন, “এটি আমার ব্যক্তিগত কোনো অর্জন নয়; বরং দলের আদর্শ এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রতি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থার প্রতিফলন। সাতক্ষীরায় দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। দলীয় নীতি ও জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস না করে তৃণমূলকে সুসংগঠিত করার কাজ চালিয়ে যাব।”
স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, বীথিকা বিনতে হোসাইনের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নেতৃত্বের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপি নতুন উদ্যমে সংগঠনকে পুনর্গঠিত করতে সক্ষম হবে এবং অতীতের স্থবিরতা কাটিয়ে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।