রাশেদুজ্জামান রিমন, কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মাংস চুরির অভিযোগে রিনা খাতুন (৪০) নামে এক নারীকে গাছে বেঁধে মারধর ও মাথার চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে ৭জনকে আসামী করে কুমারখালী থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তান হওয়া তিন নারীকে ছাড়াতে বুধবার সকালে থানা ঘেরাও করে তাদের স্বজনেরা। স্বজনদের দাবি পুলিশ মিমাংসা করার আশ্বাসে থানায় ডেকে নিয়ে এসে তাদের গ্রেপ্তার করেছে। পরে পুলিশ পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আনে।
গ্রেপ্তার আসামীরা হলেন উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের রিপনের স্ত্রী মুক্তি খাতুন, মোমিনের স্ত্রী পারভিন খাতুন ও বক্করের স্ত্রী লিপি খাতুন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৯ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে প্রতিবেশী রিপন আলীর ঘরে ঢুকে ফ্রিজ থেকে মাংস চুরির অভিযোগ তুলে রিনা খাতুনকে গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। এরপর রিনার স্বামী জাহাঙ্গীর এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান। এরপর স্থানীয় নজরুল, কাশেম, রিপনসহ শতাধিক নারী-পুরুষ রাত ৮টার দিকে রিনার বাড়ি ভাঙচুর করে তাকে তুলে নিয়ে যায়। ফের রিপনের বাড়ি নিয়ে এসে তাকে ব্যাপক মারপিট ও মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। পরে সেখানে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বর শাহ আলমের উপস্থিতিতে সালিশ বসিয়ে রিনার দুটা গরু, একটা ছাগল ও স্বর্ণালংকারের বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। রিনা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে জেলা জুড়ে সমালোচনার শুরু হয়। এ ঘটনায় গতকাল রাতে থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী রিনা খাতুন। এরপর সকালে মির্জাপুর গ্রাম থেকে পুলিশ তিন নারী আসামীকে গ্রেপ্তার করলে তাদের স্বজনেরা ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য থানা ঘেরাও করে।
মির্জাপুর গ্রামের ইলেকট্রিক মিস্ত্রি রিপন বলেন, ওই নারী (রিনা খাতুন) আমার বাড়ি থেকে ৪১ হাজার টাকা ও মাংস চুরি করে হাতেনাতে ধরা পড়েছে। পুলিশ চোরের পক্ষ নিয়ে আমার স্ত্রীসহ তিনজনকে ধরে এনেছে। আমরা চোরের শাস্তি ও আটকদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।
কুমারখালী থানার ওসি সোলাইমান শেখ বলেন, ভুক্তেভাগী নারী থানায় মামলা করেছেন। ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় তিনজন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের পরিবারের লোকজন মিমাংসার দাবিতে থানায় একটু হট্টোগোল করেছিল। এখন পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আসামীদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।