হৃদয় রায়হান, নিজস্ব প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক কথিত পুশইনের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় সীমান্তবাসী। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণও পালাক্রমে পাহারায় অংশ নিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ থেকে ১৫ জনকে হোল্ডিং সেন্টারে জড়ো করে যানবাহনে করে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় এনে বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে কুষ্টিয়ার ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কোনো প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সীমান্ত পরিস্থিতিতে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তিকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্তে পুশইনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
৪৭ বিজিবির দায়িত্বাধীন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের প্রায় ৪৬ কিলোমিটার এবং মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তের প্রায় ৩৬ কিলোমিটার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তের বিভিন্ন বিওপিতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং দিন-রাত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারি ও টহলে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা সীমান্ত নিরাপত্তা আরও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জনগণের সতর্ক অবস্থান ও তথ্য সহায়তার কারণে সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।
দৌলতপুর সীমান্তের চিলমারী চল্লিশপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহিরুল ইসলাম বলেন, “ভারত থেকে মানুষজনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার যে চেষ্টা চলছে, তা আমরা কখনো মেনে নেব না। বিজিবি যেভাবে দিন-রাত টহল পরিচালনা করছে, তাতে অনুপ্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত মাইকিং ও বাঁশি বাজিয়ে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আমরাও সীমান্তবাসী হিসেবে বিজিবির সঙ্গে থেকে সীমান্ত সুরক্ষায় সহযোগিতা করছি।”
এ বিষয়ে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, “আমার দায়িত্বপূর্ণ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও মেহেরপুরের গাংনী সীমান্ত এলাকা দিয়ে একাধিকবার পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়েছে। আমরা কোনোভাবেই তা সমর্থন করিনি এবং প্রতিটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “সীমান্তে ২৪ ঘণ্টা টহল, মাইকিং ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সম্ভাব্য পুশইন পয়েন্টগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও জনবল বাড়ানো হবে। সীমান্ত রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।”
স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার প্রশংসা করে বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, “এই সময়ে সীমান্তে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকেরা আমাদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তারা পালাক্রমে বিজিবির সঙ্গে টহল কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের এই সহযোগিতা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”
সীমান্তে চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।