শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকায় অবস্থিত এভারগ্রীন মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র-এ চিকিৎসাধীন এক রোগীর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, কেন্দ্রের কর্মচারীদের মারধরের শিকার হয়ে ফয়জল (৫৫) নামে ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর থেকে কেন্দ্রটির পরিচালক সজীব আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহত ফয়জল কাঁচপুর পশ্চিম বেহাকৈর এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত ফোছন মিয়ার ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদকাসক্তির চিকিৎসার জন্য এভারগ্রীন মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি ছিলেন।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ফয়জল পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে কেন্দ্রের লোকজন তাকে আটক করে পুনরায় কেন্দ্রে নিয়ে আসে। এ সময় তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের একপর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তার মৃত্যু হলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
নিহতের পরিবারের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে মারধরের মাধ্যমে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। একটি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা কেন্দ্রটির কার্যক্রম এবং রোগীদের প্রতি আচরণ নিয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই কেন্দ্রটির পরিচালক সজীবকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তার বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতের পরিবারের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হত্যার অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।