হৃদয় রায়হান, নিজস্ব প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন। বুধবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি হাসপাতালটিতে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ ও চিকিৎসা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার মান সম্পর্কে সরাসরি খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে সিভিল সার্জন হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড, শিশু ও মাতৃসেবা ইউনিটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসা, ওষুধ সরবরাহ, চিকিৎসকদের উপস্থিতি এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে মতামত নেন। রোগীদের অভিযোগ ও পরামর্শ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সেবার মান আরও উন্নত করার নির্দেশনা দেন।
হাসপাতাল চত্বরে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের আধিপত্য ও অব্যবস্থাপনা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন সিভিল সার্জন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনার মাধ্যমে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছে এবং রোগীদের নানা ধরনের ভোগান্তিতে ফেলছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। আকস্মিক পরিদর্শনে এসে তিনি অভিযোগের সত্যতা দেখতে পেয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, “রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট, দালালচক্র কিংবা অসাধু গোষ্ঠীর প্রভাব মেনে নেওয়া হবে না। সরকারি হাসপাতালের সেবাকে বাধাগ্রস্ত করে কেউ ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সিভিল সার্জন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল করা, রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দালালচক্রের কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের তদারকি আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি ভেড়ামারা কোচস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত নিরাময় ক্লিনিক পরিদর্শন করেন। সেখানে চিকিৎসাসেবার মান, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ, রোগী ব্যবস্থাপনা, লাইসেন্স ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেন। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেন।
সিভিল সার্জনের এ আকস্মিক পরিদর্শন স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, রোগী ও সচেতন মহলের অনেকেই এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রোগীদের সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, হাসপাতাল ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চলমান অনিয়ম, দালালচক্র এবং অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষ আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবে।