প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি:
“আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ খামারি, সমৃদ্ধ ডেইরি”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ব্র্যাক ডেইরি এন্ড ফুড প্রজেক্টের উদ্যোগে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় “আদর্শ দুগ্ধ খামার ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণ” শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার সকাল ১১টায় উপজেলা হলরুমে আয়োজিত এ কর্মশালায় স্থানীয় দুগ্ধ খামারিদের আধুনিক পদ্ধতিতে গরু লালন-পালন, সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধ, কৃত্রিম প্রজনন, দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর খামার পরিচালনার বিভিন্ন কৌশল বিষয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, বর্তমান সময়ে লাভজনক ও টেকসই দুগ্ধ খামার গড়ে তুলতে বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। এ ধরনের প্রশিক্ষণ খামারিদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে উৎপাদন খরচ কমিয়ে আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি অফিসার ডা. মোছা: রুমানা আক্তার রোমি, উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. শারমিন আক্তার এবং উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোঃ নুরুল ইসলাম।
এছাড়া ব্র্যাক ডেইরি এন্ড ফুড প্রজেক্টের লাইভস্টক সার্ভিস শাখার ম্যানেজার ডা. রিপন মিয়া ও ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মোঃ ইমরান হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাহজাদপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ডা. মোঃ রিয়াজুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন এরিয়া ম্যানেজার মোঃ আসাদুজ্জামান।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, খামার ব্যবস্থাপনায় পরিচ্ছন্নতা, সময়মতো টিকাদান, উন্নত জাতের গবাদিপশু নির্বাচন এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দেশে গুণগত মানসম্পন্ন দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং দুগ্ধ শিল্প আরও উন্নত ও টেকসই হবে।
অন্যান্য বক্তারা খামারিদের মডেল ফার্ম গড়ে তোলা, গাভীকে সার্বক্ষণিক পরিষ্কার পানি সরবরাহ, সাইলেজ প্রস্তুত, কমপ্লিট মিল্কিং পদ্ধতি অনুসরণ এবং খামারের স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশন উন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রশিক্ষণে ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর ও ফরিদপুর উপজেলার প্রায় ১০০ জন দুগ্ধ খামারি অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা প্রশিক্ষণকে সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী হিসেবে উল্লেখ করে ব্র্যাক ডেইরির এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।