শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী, সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নে এক মৃত ব্যবসায়ীর জানাজা ও দাফন কার্যক্রম সাময়িকভাবে আটকে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মৃত ব্যক্তি গোলজার হোসেন (৬০) উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের গোপেরবাগ এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকার পর তিনি ঈদুল আজহার দিন দুপুরে নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে পরদিন সকালে তার জানাজা ও দাফনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৮টায় সনমান্দী ইউনিয়নের মশুরাকান্দা ঈদগাহ মাঠে গোলজার হোসেনের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। জানাজায় অংশ নিতে এলাকার কয়েকশ মানুষ উপস্থিত হন। এ সময় সনমান্দী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম প্রধান মৃত গোলজার হোসেনের কাছে তার ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেন এবং ওই পাওনার বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জানাজা ও দাফনের কার্যক্রমে আপত্তি জানান।
হঠাৎ এমন ঘটনায় উপস্থিত মুসল্লি ও স্বজনদের মধ্যে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কিছু সময়ের জন্য জানাজা বিলম্বিত হলে উপস্থিত জনতার মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে উভয় পক্ষের স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় আলোচনা শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী হযরত মিয়া বলেন, “জানাজায় কয়েকশ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। একটি মৃত্যুর ঘটনায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সবাই হতবাক হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।”
পরে মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা পাওনা টাকার বিষয়টি দ্রুত পরিশোধের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মৃত ব্যক্তির ভাগিনা সাইফুল ইসলাম জানান, স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয়েছে। সায়েম প্রধানও উপস্থিত লোকজনের কাছে তার আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সায়েম প্রধান বলেন, “গোলজার হোসেনের সঙ্গে আমার ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। তার কাছে আমার ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা পাওনা ছিল। বহুবার তাগাদা দিয়েও টাকা পাইনি। বিষয়টির সমাধানের জন্য আমি কথা বলতে গিয়েছিলাম। পরে পরিবারের সদস্যরা আগামী রোববারের মধ্যে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিলে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়।”
এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশকে কেউ অবগত করেনি। লিখিত বা মৌখিকভাবে জানানো হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতো।”
এদিকে একটি ধর্মীয় ও মানবিক অনুষ্ঠানে পাওনা টাকার বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দেনা-পাওনার বিষয়টি আইনগত বা সামাজিকভাবে সমাধান করা সম্ভব হলেও জানাজা ও দাফনের মতো ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া অনভিপ্রেত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।