এস চাঙমা সত্যজিৎ
স্টাফ রিপোর্টার
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার লক্ষীছড়ি উপজেলার শিক্ষা অঙ্গনের সুপরিচিত নাম লক্ষীছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার চাকমা। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে নিষ্ঠা, সততা, দক্ষতা ও মানবিক গুণাবলির মাধ্যমে তিনি একজন আদর্শ শিক্ষকের মর্যাদা অর্জন করেছেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পাঁচবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।
বর্তমানে লক্ষীছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনরত বিজয় কুমার চাকমা শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি নিজের শিক্ষাজীবনও অব্যাহত রেখেছেন। চলতি বছর তিনি সফলভাবে এমএড (মাস্টার অব এডুকেশন) ডিগ্রি অর্জন করেছেন, যা তাঁর শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহ ও আত্মোন্নয়নের মনোভাবের পরিচয় বহন করে।
ইংরেজি, বাংলা ও গণিত বিষয়ে তাঁর দক্ষতা এবং বিষয়ভিত্তিক গভীর জ্ঞান তাঁকে একজন অনন্য শিক্ষকে পরিণত করেছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সহকর্মীদের কাছে তিনি একজন নির্ভরযোগ্য পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচিত। শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে তিনি সবসময় গঠনমূলক পরামর্শ প্রদান করে থাকেন।
ব্যক্তিগত জীবনে সততা, নৈতিকতা ও আত্মসম্মানবোধের জন্য তিনি এলাকায় ব্যাপকভাবে সমাদৃত। সকলের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, মানবিক মূল্যবোধের চর্চা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার কারণে তিনি সমাজের একজন গ্রহণযোগ্য ও সম্মানিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।
অবসর সময়ে তিনি শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক মূল্যবোধ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেন। সমসাময়িক বিশ্ব পরিস্থিতি, সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর জ্ঞানগর্ভ বিশ্লেষণ স্থানীয়দের কাছে প্রশংসিত। জ্ঞান অর্জনের প্রতি তাঁর আগ্রহ আজও অটুট। নতুন বিষয় জানার ও শেখার ক্ষেত্রে তিনি কখনো ক্লান্তি অনুভব করেন না।
স্থানীয় মুরুব্বি ও সাবেক চেয়ারম্যান প্রবিল চাকমা বলেন, “বিজয় কুমার চাকমা একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তিনি সবসময় সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করেন। বিভিন্ন সমস্যা ও জটিল পরিস্থিতিতে তাঁর পরামর্শ অত্যন্ত কার্যকর। তাঁর মেধা, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
শুধু শিক্ষকতাই নয়, উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে বিজয় কুমার চাকমা প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘লক্ষীছড়ি এডুকেশন সাপোর্ট গ্রুপ’। এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি অনেক মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগেও তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন এগিয়ে নিতে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, তিনি একজন পরোপকারী, মিতভাষী ও চিন্তাশীল মানুষ। কারও সম্পর্কে কটূক্তি বা নেতিবাচক মন্তব্য না করে সবসময় সমাজ ও মানুষের কল্যাণে সহায়ক বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তাঁর জীবনাদর্শ, কর্মনিষ্ঠা এবং শিক্ষার প্রতি নিবেদন নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুকরণীয় উদাহরণ।
শিক্ষা বিস্তার, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং সমাজ উন্নয়নে অবদানের মাধ্যমে বিজয় কুমার চাকমা আজ লক্ষীছড়ির গণ্ডি পেরিয়ে একজন আদর্শ শিক্ষক ও সমাজসেবক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।