বুলবুল আহম্মেদ (বুলু), বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নের জগপাড়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শ্রী দিলীপ সাধু আজ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মাথার ওপর নেই নিরাপদ ছাদ, নেই পর্যাপ্ত খাবার কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জীবনধারণের সামগ্রী। একটি জরাজীর্ণ পলিথিনের ঘরেই তার দিন-রাত কাটছে চরম কষ্টে। সামান্য বৃষ্টি কিংবা ঝড় হলেই ভিজে যায় পুরো আশ্রয়স্থল। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি যেন অসহায়ত্ব আর অবহেলার এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় শ্রী দিলীপ সাধুর একটি স্বাভাবিক সংসার ছিল। স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে সুখ-দুঃখের মধ্য দিয়েই চলছিল জীবন। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সংসার ভেঙে যায়। স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান এবং দুই মেয়েও বাবার খোঁজখবর নেন না। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ একাকী ও নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তার বসবাসের ঘর বলতে বাঁশ ও কাঠের খুঁটির ওপর পলিথিন টাঙিয়ে তৈরি একটি ছোট্ট ঝুপড়ি। ঘরের ভেতরে নেই কোনো আসবাবপত্র, নেই খাট, চেয়ার কিংবা আলমারি। এমনকি রান্নাবান্না ও খাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় থালা-বাসনও নেই বললেই চলে। ঘরের মেঝে কাঁচা হওয়ায় বৃষ্টির সময় পানি জমে যায় এবং বসবাস প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিলীপ সাধুর শারীরিক অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। বয়সের ভার ও অসুস্থতার কারণে তিনি এখন আর নিয়মিত শ্রমের কাজ করতে পারেন না। ফলে আয়-রোজগারের কোনো স্থায়ী উৎস নেই। অনেক সময় দিনের পর দিন অনাহারে কিংবা অর্ধাহারে থাকতে হয় তাকে। প্রতিবেশীরা মানবিক কারণে মাঝে মধ্যে খাবার বা কিছু অর্থ সাহায্য করলেও তা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে জীবনযাপন সম্ভব হচ্ছে না।
ঝড়-বৃষ্টির রাতে তার দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। পলিথিনের ছাউনি দিয়ে পানি চুঁইয়ে পড়লে ঘরের এক কোণ থেকে আরেক কোণে আশ্রয় নিতে হয়। অনেক রাতই নির্ঘুম কাটাতে হয় তাকে। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যেই দিন কাটছে তার।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বয়স্ক ভাতা, খাদ্য সহায়তা ও আশ্রয়ণ প্রকল্প থাকলেও এখন পর্যন্ত শ্রী দিলীপ সাধুর ভাগ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য সরকারি সহায়তা জোটেনি। প্রকৃত অসহায় ও দরিদ্র ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তিনি এসব সুবিধার আওতার বাইরে রয়ে গেছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ার বিষয়ে আক্ষেপ করে শ্রী দিলীপ সাধু বলেন, “আমার মতো হতভাগা মানুষ আর আছে কি না জানি না। বয়স হয়েছে, কাজ করতে পারি না। অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হয়। একটা ভালো ঘর আর দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা হলে বাকি জীবনটা কোনোভাবে কাটিয়ে দিতে পারতাম।”
স্থানীয় সমাজসেবী ও সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, শ্রী দিলীপ সাধুর মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক দায়িত্বই নয়, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বও বটে। তারা দ্রুত তার জন্য একটি স্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা, খাদ্য সহায়তা, বয়স্ক ভাতা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবার উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিত্তবানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, একজন অসহায় নাগরিকের জীবন রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। মানবিক সহায়তা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে শ্রী দিলীপ সাধু অন্তত সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগ পাবেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং শ্রী দিলীপ সাধুর জন্য একটি নিরাপদ বাসস্থান ও মৌলিক জীবনধারণের নিশ্চয়তা প্রদান করবে। কারণ একজন নাগরিক হিসেবে বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকার থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হয়ে