মাহমুদ হাসান রনি, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌর এলাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক, সাবেক প্রভাষক ও মেমনগর বিডি বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আলহাজ্ব মশিউর রহমান। তাঁর নিজস্ব উদ্যোগ ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে ঈদের দিন কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যেই পৌরসভার অধিকাংশ এলাকার কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে ঈদের জামাত শেষে দর্শনা পৌরসভার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও অলিগলিতে কোরবানির পশু জবাই শুরু হলে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও জোরদার করা হয়। কোরবানি সম্পন্ন হওয়ার পরপরই বিএনপির নেতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সমন্বয়ে একাধিক টিম মাঠে নামে। তারা পিকআপ ভ্যানের মাধ্যমে দ্রুত বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দর্শনা পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক, গলি ও আবাসিক এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের সচেতন করা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য রাখতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দ্রুততার সঙ্গে পশুর নাড়িভুঁড়ি, রক্ত ও অন্যান্য বর্জ্য সংগ্রহ করে অপসারণ করছেন।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া কর্মীরা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে এবার নিয়মিত কর্মীদের পাশাপাশি অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা পরিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে।
শুধু বর্জ্য অপসারণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি এ কার্যক্রম। প্রতিটি স্থান পরিষ্কারের পর পানি ও ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে। এতে দুর্গন্ধ কমার পাশাপাশি রোগজীবাণুর বিস্তার রোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার অনেক দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। ফলে রাস্তাঘাটে দুর্গন্ধ, ময়লা-আবর্জনা কিংবা জনভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়েছে। এমন উদ্যোগে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানান।
দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক আলহাজ্ব মশিউর রহমান বলেন, “পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। ঈদের আনন্দের পাশাপাশি আমাদের পরিবেশের প্রতিও দায়িত্বশীল হতে হবে। কোরবানির বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সহযোগিতা করতে হবে। দর্শনাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, পৌরবাসীর সহযোগিতা এবং নেতাকর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও জনস্বার্থে এ ধরনের সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
দর্শনা পৌর এলাকায় কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের এ উদ্যোগ সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের সময়োপযোগী ও পরিকল্পিত উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।