কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র সোনামুখী বাজারে দই, মিষ্টি, ফলমূলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বাজারে পণ্যের চাহিদা বাড়ার সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বাজারে পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বাড়লেও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্রেতারা।
সরেজমিনে বাজার ঘুরে এবং ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক মাস আগেও যে দই প্রতি কেজি ১৫০ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে সেই দইয়ের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫০ টাকায়। একইভাবে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি, যা আগে ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত, বর্তমানে তা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে এসব খাদ্যপণ্য কিনতে পারছেন না।
শুধু দই ও মিষ্টিই নয়, বাজারে ফলমূলের দামও অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রতি ১০০ পিস লিচু বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮০০ টাকায়। মৌসুমি ফল হওয়া সত্ত্বেও লিচুর এই উচ্চমূল্য সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এছাড়া আম, কলা, তরমুজ, আনারসসহ অন্যান্য ফলের দামও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, বাজারে কোনো ধরনের নিয়মিত মনিটরিং বা তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছামতো পণ্যের দাম নির্ধারণ করছেন। অনেক দোকানে মূল্যতালিকা না থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
সোনামুখী বাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, “আমরা দিন আনি দিন খাই মানুষ। আগে যে টাকা নিয়ে বাজারে এসে সপ্তাহের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারতাম, এখন সেই টাকা দিয়ে অর্ধেক জিনিসও কেনা যাচ্ছে না। আয় বাড়েনি, কিন্তু বাজারের সব জিনিসের দাম আকাশচুম্বী হয়ে গেছে।”
আরেকজন ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দই-মিষ্টির দাম এত বেশি হয়ে গেছে যে সাধারণ মানুষের পক্ষে কেনা প্রায় অসম্ভব। ঈদ সামনে হওয়ায় পরিবার-পরিজনের জন্য কিছু কিনতে গেলেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাজারে প্রশাসনের নজরদারি থাকলে ব্যবসায়ীরা এভাবে অতিরিক্ত দাম নিতে পারতেন না।”
তবে কয়েকজন ব্যবসায়ী দাবি করেন, পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই খুচরা পর্যায়ে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবহন ব্যয়, কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের কারণে তাদেরও বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে তারা জানান।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে কার্যকর মনিটরিং ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি খাদ্য ও ফলমূলের দাম বাড়ায় এসব পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, বাজারে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, মূল্যতালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা এবং অতিরিক্ত মুনাফা আদায়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত সোনামুখী বাজারসহ উপজেলার অন্যান্য বাজারে মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করবে এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। অন্যথায় আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে বাজার পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।
সাধারণ মানুষের দাবি, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা হলে তারা কিছুটা স্বস্তি ফিরে পাবেন এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা পরিচালনা করতে পারবেন।