হৃদয় রায়হান, নিজস্ব প্রতিনিধি :
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় মেহেরুন নেছা (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৫ মে) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের সাতভাইপাড়া এলাকার একটি বাড়ির রান্নাঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মেহেরুন নেছা ওই এলাকার মৃত ফজলুর রহমানের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেহেরুন নেছা দীর্ঘদিন ধরে তার চাচা শ্বশুর মশিউর রহমানের বাড়িতে স্বামী ফজলুর রহমানকে নিয়ে বসবাস করতেন। তবে প্রায় ১০ মাস আগে স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ওই বাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শনিবার বিকেলের দিকে তাকে আবারও ওই বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।
সোমবার সকালে নিহতের দেবর আতিউর রহমানের স্ত্রী নাসিমা খাতুন বাড়িটি পরিষ্কার করতে গিয়ে রান্নাঘরের ভেতরে মেহেরুন নেছাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা—এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, মরদেহের পা মাটির সঙ্গে স্পর্শ করা অবস্থায় ছিল। এ কারণে অনেকেই ঘটনাটিকে রহস্যজনক হিসেবে দেখছেন এবং এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, “মেহেরুন নেছা নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।