মাহমুদ হাসান রনি, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার আওতায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের এক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি মুক্তি পেয়েছেন। রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমা ঘোষণার অংশ হিসেবে সারাদেশে মোট চারজন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির অবশিষ্ট সাজা মওকুফ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয় আব্দুল মালেক নামের এক বন্দিকে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের জেলার মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে মুক্তির আদেশ কারাগারে এসে পৌঁছায়। যাচাই-বাছাই শেষে রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি আব্দুল মালেককে মুক্তি দেওয়া হয়।
মুক্তিপ্রাপ্ত আব্দুল মালেক চুয়াডাঙ্গা শহরের বুজরুক গড়গড়ি মাদ্রাসাপাড়া এলাকার মৃত মোন্তাজ মালিতার ছেলে। তার কয়েদি নম্বর ছিল ২৩০৫/এ। তিনি একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত ছিলেন।
কারা সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার বিজ্ঞ অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের সেশন মামলা নং ১০০/২০০৮ এর রায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মামলাটি ছিল চুয়াডাঙ্গা থানার মামলা নং-০৮, তারিখ ১১ জুন ২০০৭ এবং জিআর নং-১৯৬/২০০৭। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সাজা প্রদান করা হয়।
জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, আব্দুল মালেক দীর্ঘ ১১ বছর কারাভোগ করেছেন। রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার আওতায় তার অবশিষ্ট সাজা মওকুফ করা হয়। রবিবার বিকেলে ই-মেইলের মাধ্যমে মুক্তির সরকারি আদেশ কারাগারে পৌঁছালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই শেষে তাকে মুক্তি প্রদান করা হয়।
কারামুক্তির সময় আব্দুল মালেকের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা কারাফটকে উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনকে ফিরে পেয়ে তাদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের অনেকেই আনন্দে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এদিকে মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিকে পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি লুঙ্গি ও একটি পাঞ্জাবি প্রদান করা হয়। এছাড়া কারা কর্তৃপক্ষ তার অনাদায়ী পাঁচ হাজার টাকার অর্থদণ্ড পরিশোধ করে দেয় এবং তাকে নগদ এক হাজার টাকা সম্মাননা হিসেবে প্রদান করা হয়।
কারা সংশ্লিষ্টরা জানান, রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সংশোধিত ও অনুতপ্ত বন্দিদের সমাজে পুনর্বাসনের সুযোগ করে দিতেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সমাজে ফিরে গিয়ে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি নতুনভাবে জীবন শুরু করতে পারলে তা যেমন তার পরিবারের জন্য ইতিবাচক হবে, তেমনি সমাজেও পুনর্বাসনের একটি ইতিবাচক বার্তা