এম. এস. আই শরীফ, ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কামালপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৪ মে ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ সেবামূলক কার্যক্রমে এলাকার দরিদ্র, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়।
স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ক্যাম্পটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী, পুরুষ, শিশু ও বয়স্ক রোগীরা চিকিৎসাসেবা নিতে ভিড় করেন। মেডিকেল ক্যাম্পে অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করেন। দিনব্যাপী প্রায় ৬০০ জন রোগী এ সেবা গ্রহণ করেন বলে জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ তাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, “দেশের সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনপদের মানুষের কল্যাণে বিজিবি সবসময় মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। চিকিৎসাসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আমাদের এই উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, বিজিবি শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই থেমে নেই, বরং সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দায়পুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আলমগীর হোসেন, শিয়ালমারা কোম্পানি কমান্ডার মোঃ তুষার আহমেদ, বিলভাতিয়া ক্যাম্প কমান্ডার মোঃ শফিকুল ইসলাম, কামালপুর বিওপি ক্যাম্প কমান্ডার দেলোয়ার হোসেন এবং কামালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুস সালাম।
এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্তবর্তী এ এলাকায় দরিদ্র মানুষের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন। ফলে বিজিবির এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য অনেক উপকার বয়ে এনেছে। বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়ে অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে নবাগত সিও’র সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিকদের এক মতবিনিময় সভাও অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সীমান্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।