মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে আবু তাহের নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভয়াবহ প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের রববাজারের সরকারি পুকুরপাড় এলাকায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আতরের জামান কমলনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা যায়, ২০২০ সালে চরকাদিরা ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের রববাজার এলাকার আতরের জামান নামের এক সেলুন দোকানদারের কাছে ৩২ শতক জমি ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা চুক্তিতে বিক্রি করেন আবু তাহের। এই মর্মে তাদের মধ্যে স্টাম্পের মাধ্যমে একটি চুক্তি নামা হয়। এতে নগদ ২ লাখ ১০ হাজার টাকা বুঝিয়ে নেন আবু তাহের। জমিনের জমা খারিজ করে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে বাকি ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা নিবেন মর্মে স্টাম্পে লিপিবদ্ধ হয়। এর মধ্যে আবু তাহের তার জমিনের জমা খারিজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হওয়ায় রেজিষ্ট্রেশন দিতে পারেনি আতরের জামানকে। দু'পক্ষই স্বাক্ষী হিসেবে স্থানীয় মেম্বার সহ গন্যমান্যদের রাখা হয়। এরই মধ্যে আবু তাহের বায়না চুক্তিদাতাকে জমিন বুঝিয়ে দেন। ওই জমির ১৬ শতাংশে আতরের জামান জনস্বার্থে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য একটি জামে মসজিদ নির্মাণ করে দেন। বাকি ১৬ শতাংশ জমিতে তিনি বসতি স্থাপন করেন। বর্তমানে ওই জমিতে একটি জুমআর মসজিদ,বসতি ও স্থাপনা রয়েছে। আবু তাহের উপজেলার চরফলকন ইউনিয়নের লুধুয়া এলাকার মৃত মকবুল আহমদের ছেলে। এ ঘটনাটি ২০২০ সালের।
এদিকে চলতি বছরের এপ্রিল মাসের ২২ তারিখে আবু তাহের বিক্রিত ওই জমির জমা খারিজ সম্পন্ন করে ক্রেতা আতরের জামানকে না জানিয়ে গোপনে বেশী দামে জমিটি চলতি মে মাসের ৬ তারিখে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার রাজু নামের একজনের কাছে দ্বিতীয়বার বিক্রি করে দলিল করে দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় সমাজবাসী, মসজিদ কমিটি ও মুসল্লীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
জমি রেজিষ্ট্রেশন করে রাজু ওই জমিতে গেলে বায়না চুক্তি করা আতরের জামান,মসজিদ কমিটি ও মুসল্লীরা হতভম্ব হয়ে যায়। এক জমি আবু তাহের কয়জনে কাছে বিক্রি করলেন এমন প্রশ্নে গোটা এলাকায় সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে দ্বিতীয়বার ক্রয় করা রাজু ওই মসজিদের ইমাম হয়ে মসজিদের জমি ক্রয় করা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
তবে স্থানীয়রা জানান, মসজিদের ইমাম রাজুকে ওই এলাকার যুবদল নেতা জয়নাল ইন্ধন দিয়ে এসব করাচ্ছেন।
বয়না চুক্তিকরা আতরের জামান জানান, তিনি একজন সেলুন দোকানদার। পরিশ্রম করে টাকা জমিয়ে ৩২ শতাংশ জমি ক্রয় করে ১৬ শতাংশ মসজিদকে দান করেন। আর ১৬ শতাংশে তিনি বসতি স্থাপন করেন। আবু তাহের তার সাথে ২০২০ সালে স্টাম্পের মাধ্যমে জমি বায়না চুক্তি করে টাকা নিয়েছেন। রাজু ওই মসজিদের ইমাম হয়ে সবকিছু জেনেও তিনি কিভাবে ওই জমি নিজের নামে রেজিষ্ট্রেশন করে নিয়েছেন?। ঘটনার্টির সুষ্ঠু বিচার চান তিনি।
দলিল নেওয়া মোঃ রাজু জানান, কে বা কাহারা তার নামে জমি রেজিষ্ট্রেশন করেছেন বলে তিনি শুনেছেন।
জমির মালিক আবু তাহের জানান,এই জমি আমি প্রথমে আতরের জামানের কাছে বিক্রি করে বায়না হিসেবে ১ লাখ ১০ হাজার টাকাও নিয়েছি। বাকি টাকা না দেওয়ায় আমি পরে আরেকজনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। এখন আমার করার কিছুই নেই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) মহিন উদ্দিন বলেন, জমির মুল মালিক আবু তাহের সম্পন্ন প্রতারণা করেছেন। একজনের কাছে ২০২০ সালে অলরেডি বিক্রি করে টাকাও নিয়েছেন। আবার চলতি মাসে বেশী দাম পেয়ে মসজিদের ইমামের কাছে দ্বিতীয়বার বিক্রি করেন। এক জমি দু'জনের কাছে বিক্রি করে তিনি প্রতারণার আশ্রয় নেয়েছে। জমির উপর বর্তমানে জুমআর মসজিদ, বসতি ও স্থাপনা রয়েছে।
চরকাদিরা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হারুন বলেন, এগুলো এক প্রকার প্রতারণা। দ্বিতীয়বার যারা ক্রয় করছেন,তারা সবকিছু জেনে বুঝে এই জমি ক্রয় করা মোটেও ঠিক হয়নি। কারন: ওই জমিতে একটি মসজিদ ও স্থাপনা রয়েছে।
কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগের আলোকে পুলিশ তদন্ত করে ওই জমিতে মসজিদ ও স্থাপনা থাকায় কিছুই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি আদালত বিবেচনা করবে।