জামালপুর প্রতিনিধি :
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জামালপুর থেকে ট্রেনে গরু পরিবহনে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কম খরচ, নিরাপদ যাত্রা ও যানজট এড়ানোর সুবিধায় এবারও “ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন” ঘিরে ব্যাপক সাড়া পড়েছে খামারি ও গরু ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর জেলা থেকে ৩টি বিশেষ ট্রেনের ৭৫টি ওয়াগনে প্রায় ১২০০ গরু ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে শুক্রবার দুটি ট্রেন এবং শনিবার বিকেলে আরও একটি ট্রেন ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জামালপুরের ইসলামপুর বাজার রেলস্টেশন থেকে ২৫টি ওয়াগনে প্রায় ৪০০ গরু নিয়ে প্রথম ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। প্রতিটি ওয়াগনে ১৬টি করে গরু পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গরু ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্রাকে পশু পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া, সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং পথে পথে চাঁদাবাজির কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে ছিলেন। সেখানে ট্রেনে পরিবহন তুলনামূলক কম খরচে ও নিরাপদ হওয়ায় এখন তারা ট্রেনমুখী হচ্ছেন।
গরু ব্যবসায়ী আলী আকবর বলেন,
“আমি প্রতিবছরই গরু নিয়ে ঢাকায় যাই। এবারও ৮টা গরু নিচ্ছি। জামালপুরের চেয়ে ঢাকায় গরুর দাম ভালো পাওয়া যায়। প্রতি গরুতে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা বেশি লাভ হয়। তাই কষ্ট করেও ঢাকায় নিয়ে যাই।”
খামারি শফিকুল ইসলাম বলেন,
“ট্রাকে গরু নিলে ভাড়া বেশি লাগে, ঝাঁকুনি বেশি হয়, দুর্ঘটনার ভয় থাকে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাও দিতে হয়। ট্রেনে এসব ঝামেলা নেই। নিরাপত্তাও ভালো।”
ব্যবসায়ী জাবের আহাম্মেদ জানান,
“এক ট্রাক গরু ঢাকায় নিতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। সেখানে ট্রেনে ১৬টি গরু নিতে খরচ হয় মাত্র ৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি গরু পরিবহনে খরচ পড়ে প্রায় ৫০০ টাকা। তাই ট্রেনে গরু নেওয়ার এত চাপ।”
করোনা পরিস্থিতির সময় ২০২১ সালে কম খরচে পশু পরিবহনের সুবিধা দিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে “ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন” চালু করে। এরপর থেকেই কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এই ট্রেনের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
তবে ব্যবসায়ীরা দাবি জানিয়েছেন, ঢাকায় গরু বিক্রি না হলে যেন সেগুলো ফেরত আনার জন্যও বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়।
গরু ব্যবসায়ী সেলিম মণ্ডল বলেন,
“সব গরু সবসময় বিক্রি হয় না। তখন বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হয়। যদি ফিরতি ট্রেন থাকতো, তাহলে অবিক্রিত গরু আবার নিয়ে আসা যেতো।”
জামালপুর থেকে ঢাকা পর্যন্ত প্রতিটি ওয়াগনের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। সুবিধা বেশি থাকায় আগামীতে ট্রেনের সংখ্যা আরও বাড়ানোর দাবি উঠ