বুলবুল আহম্মেদ বুলু
বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ভান্ডারপুর-মিঠাপুর কামারপল্লীতে এখন চলছে ব্যাপক কর্মব্যস্ততা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আগুনের ভাঁটিতে লোহা পুড়িয়ে হাতুড়ির আঘাতে তৈরি করা হচ্ছে কোরবানির কাজে ব্যবহৃত দা, ছুরি, চাপাতি, বটি ও বিভিন্ন ধারালো সরঞ্জাম। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কামারপল্লীর কারিগরদের ব্যস্ততা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কামারপল্লীর প্রতিটি কারখানায় চলছে টানা কাজ। আগুনের লেলিহান শিখা আর হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। কেউ লোহা গরম করছেন, কেউ ধার দিচ্ছেন তৈরি হওয়া সরঞ্জামে। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় ঈদুল আজহার আগে এই সময়টিতেই সবচেয়ে বেশি কাজের চাপ থাকে বলে জানান কারিগররা।
স্থানীয় কারিগর সন্তোষ কর্মকার বলেন,
“বাবা-দাদার সময় থেকে আমরা এই পেশার সঙ্গে জড়িত। ঈদ এলেই কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। তবে লোহা ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লাভ থাকে না।”
তিনি আরও বলেন,
“এই ঐতিহ্যবাহী পেশা টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তা ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা খুব প্রয়োজন। তা না হলে ভবিষ্যতে এই কুটির শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।”
কামারপল্লীর আরেক কারিগর রমেশ কর্মকার জানান, বর্তমানে বাজারে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরঞ্জামের উৎপাদন খরচও অনেক বেড়েছে। তবুও ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
এদিকে বাজারে কোরবানির সরঞ্জাম কিনতে আসা ক্রেতা ফরহাদ জাহান বলেন,
“অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার চাপাতি, ছুরি ও বটির দাম কিছুটা বেশি। তারপরও কোরবানির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতেই হচ্ছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল ও জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, কামারশিল্প বাংলার ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু আধুনিক যন্ত্রপাতি ও শিল্পায়নের চাপে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে এই পেশা। সরকারের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা ও সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা হলে এ শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
ঈদ সামনে রেখে তাই এখন বদলগাছীর ভান্ডারপুর কামারপল্লীতে বিরামহীন চলছে কাজ। হাতুড়ির প্রতিটি আঘাত যেন জানান দিচ্ছে—কোরবানির ঈদ আর বেশি দূরে নয়।