এম এম বুলবুল আহমেদ
মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার, ঢাকা
ঢাকার আশুলিয়ার বাইপাইল শিল্পাঞ্চলে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের (ডিবিবিএল) এটিএম বুথগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবী কর্মীরা। বিশেষ করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মধ্যে এ নিয়ে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বুথ থাকলেও অধিকাংশ বুথেই টাকা নেই। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেক গ্রাহক টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। মাঝে মধ্যে টাকা বহনকারী গাড়ি এসে অল্প কিছু বুথে সীমিত পরিমাণ টাকা লোড দিয়ে চলে যায়। ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার বুথগুলো খালি হয়ে পড়ে।
এলাকাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইপিজেড ও শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানে অসংখ্য গার্মেন্টস কারখানা রয়েছে। অধিকাংশ শ্রমিকের বেতন ডাচ-বাংলা ব্যাংকের রকেট ও ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী এটিএম বুথে টাকা না থাকায় শ্রমিকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, কোনো কোনো বুথে টাকা এলে সেখানে দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। অনেক সময় ৩ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় টাকা তুলতে। সারাদিন কারখানায় কাজ করার পর আবার দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ায় শ্রমিকরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি মাসের ১ তারিখ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত বেতন তোলার চাপ বেশি থাকলেও সেই সময় বুথগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা রাখা হয় না। ফলে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে হট্টগোল, বাকবিতণ্ডা এমনকি মারামারির ঘটনাও।
সাধারণ মানুষের দাবি, নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা ব্যাংকে জমা রাখার পরও সময়মতো উত্তোলন করতে না পারা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, বাজার-সদাই ও পারিবারিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।
শ্রমজীবী মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা ডাচ-বাংলা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান দাবি করেছেন। বিশেষ করে আশুলিয়ার বাইপাইল শিল্পাঞ্চলের প্রতিটি বুথে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত টাকা সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং যে কোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।