আল মামুন মিলন, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৬ কেজি গাঁজা ও একটি পিকআপ ভ্যানসহ দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের ঝিনাইকুড়ি বাজার এলাকার কাবের মোড় থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার সকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— নেত্রকোনা জেলার সদর থানার শ্রীপুর বালী গ্রামের মৃত সালেক মিয়ার ছেলে আব্দুল জলিল মিয়া (২৭) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানার কায়েমপুর গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে সাকিব আহম্মেদ (২৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে পার্বতীপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টহল দল উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত রাত্রিকালীন টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। এ সময় রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে মোবাইল ফোনে খবর আসে যে, ঝিনাইকুড়ি বাজারের কাবের মোড় এলাকায় একটি সন্দেহজনক পিকআপ ভ্যানকে স্থানীয় লোকজন আটকে রেখেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে পিকআপ ভ্যানটি তল্লাশি চালিয়ে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা মেট্রো-ন-১২-২৭৪৬ নম্বরের পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করা হয়।
এসআই নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করেছে যে তারা ঢাকার শনির আখড়া এলাকা থেকে গাঁজাগুলো সংগ্রহ করে পার্বতীপুরের হাবড়া ইউনিয়নে নিয়ে আসছিল। তারা আরও জানায়, এর আগেও অন্তত দুইবার একই এলাকায় মাদক সরবরাহ করেছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের তৎপরতার কারণেই দ্রুত অভিযানে সফল হওয়া সম্ভব হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এ ঘটনায় এসআই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে পার্বতীপুর মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ জানান, জব্দকৃত গাঁজা ও পিকআপ ভ্যানসহ আটক দুই আসামিকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা হয়ে মাদক প্রবেশের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় পার্বতীপুরসহ আশপাশের উপজেলাগুলোতে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন। পুলিশের এমন অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।