ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে মানবেতর জীবনযাপনের অবসান হতে চলেছে অসহায় মাহতাব হোসেনের। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও বসবাসের অনুপযোগী একটি ঘরে পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি। মাথার ওপর ছিল না নিরাপদ ছাদ, সামান্য বৃষ্টি কিংবা তীব্র রোদেও দুর্ভোগ পোহাতে হতো তাকে।
সম্প্রতি স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে মাহতাব হোসেনের করুণ জীবনসংগ্রামের সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। সংবাদটি দেখে দ্রুত মানবিক সহায়তার উদ্যোগ নেন তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান।

খবর প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই ইউএনও নিজে মাহতাব হোসেনের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে সরকারি সহায়তার ঢেউ টিন, নগদ অর্থ ও ঘর মেরামতের প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেন। একই সঙ্গে দ্রুত ঘরটি বসবাসের উপযোগী করে তোলার নির্দেশও প্রদান করেন।
এসময় ইউএনও’র এমন মানবিক উপস্থিতিতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বৃদ্ধ মাহতাব হোসেন। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন,
“আমার দুর্দশার খবর সাংবাদিকরা প্রকাশ করার পরই আজ সরকারি বড় অফিসার নিজে আমার বাড়িতে টিন নিয়ে এসেছেন। আমি কখনও ভাবিনি এত দ্রুত আমার কষ্টের দিন শেষ হবে। যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আল্লাহ তাদের ভালো রাখুক।”
স্থানীয়রা জানান, বহু বছর ধরে অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলেন মাহতাব হোসেন। অর্থাভাবে নিজের ভাঙাচোরা ঘর সংস্কার করার সামর্থ্য ছিল না তার। বর্ষাকালে ঘরের ভেতরে পানি পড়তো, আর শীত-গরমেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো পরিবারটিকে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন,
“গণমাধ্যমে সংবাদটি দেখার পর আমি আর বসে থাকতে পারিনি। একজন মানুষ এমন অমানবিক অবস্থায় বসবাস করছেন, তা সত্যিই কষ্টদায়ক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে ঢেউ টিন ও ঘর মেরামতের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় তাকে একটি স্থায়ী পাকা ঘর দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের দায়িত্ব। গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই এমন অনেক সমস্যা দ্রুত প্রশাসনের নজরে আসে এবং সমাধানের পথ তৈরি হয়।
টিন ও সহায়তা সামগ্রী হস্তান্তরের সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের এমন দ্রুত, মানবিক ও ইতিবাচক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, গণমাধ্যম ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে অসহায় মানুষের জীবন বদলে যেতে পারে।