কাগজ ডেক্স :
চাকরি দেওয়ার আশ্বাস পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভে স্কুলের মাঠে পাট চাষ করেছেন এক ব্যক্তি। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়ার মুরারিখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।
জমি ও চাকরির আশ্বাসকে ঘিরে জটিলতা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির মোট জমির পরিমাণ প্রায় ৬৮ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে পাশের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়।
এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জমির মালিক মো. কালাম খানের সঙ্গে একটি মৌখিক সমঝোতা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তার ছেলেকে বিদ্যালয়ে দপ্তরি পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসের বিনিময়ে প্রায় ১৩ শতাংশ জমি ব্যবহার করে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, চাকরি সম্পন্ন হলে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল বলে জানা গেছে।
দীর্ঘ সময়েও চাকরি না হওয়ায় ক্ষোভ
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর পার হলেও আশ্বাস অনুযায়ী চাকরি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে জমির মালিকপক্ষ বাউন্ডারি ভেতরের অংশে আবার পাট চাষ শুরু করেন।
এর ফলে বিদ্যালয়ের মাঠের একাংশ দখল হয়ে যায় এবং শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও চলাফেরায় সমস্যা তৈরি হয়। স্থানীয়রা জানান, পাটক্ষেতের কারণে মাঠের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, পাশাপাশি পোকামাকড়ের উপদ্রবও বাড়ছে।
শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের অভিযোগ
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, মাঠে পাট চাষ হওয়ায় শিশুরা ঠিকমতো খেলাধুলা করতে পারছে না। অনেক সময় পোকামাকড়ের ভয়ে মাঠে যেতে চায় না তারা। দ্রুত ওই জমি থেকে পাট ক্ষেত অপসারণের দাবি জানান তারা।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার খানম জানান, বাউন্ডারি সোজা করার সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সিদ্ধান্তে পাশের জমি ব্যবহার করে দেয়াল নির্মাণ করা হয়। তবে কোন শর্তে জমি নেওয়া হয়েছিল বা রেজিস্ট্রি হয়েছে কি না, তা তার জানা নেই।
তিনি আরও বলেন, জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। তবে মাঠের ভেতরে ফসল থাকায় শিক্ষার্থীদের সমস্যা হচ্ছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
জমির দাবিদারের বক্তব্য
জমির দাবিদার কালাম খান বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার ছেলেকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে জমি ব্যবহারের অনুরোধ করেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও চাকরি না হওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে আবার জমিতে চাষ শুরু করেছেন।
তার দাবি, হয় তার ছেলেকে চাকরি দিতে হবে, না হলে জমির সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে অথবা জমি ফেরত দিতে হবে।
শিক্ষা কর্মকর্তার মন্তব্য
কালুখালী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, রাজনৈতিক ও স্থানীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বাউন্ডারি নির্মাণ করা হলেও পরে জমি রেজিস্ট্রি না হওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।