মাহমুদ হাসান রনি, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তবর্তী এলাকায় এক নাবালিকাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ধর্ষণের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে দর্শনা থানার নেহালপুর ইউনিয়নের কুন্দিপুর গ্রামের বেলে মাঠ এলাকায় তিন যুবক মিলে এক নাবালিকাকে জোরপূর্বক ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে স্থানীয় হাবিল মিয়ার ছেলে মিরাজ (২৫) মেয়েটিকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় আব্দুস সামাদের ছেলে পলাশ (২৫) মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে এবং হোসেন আলীর ছেলে জনি (২৩) পাহারার দায়িত্বে ছিল বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর বিষয়টি গোপন থাকলেও কয়েকদিন আগে ভিডিওটি বিভিন্ন মানুষের মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ তদন্তে নামে। বুধবার সন্ধ্যায় দর্শনা থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ভিডিও ধারণকারী পলাশ ও সহযোগী জনিকে আটক করে। তবে মূল অভিযুক্ত মিরাজ পলাতক রয়েছে।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) হিমেল রানা জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে আটক করা হয়েছে। যেহেতু ঘটনাস্থল চুয়াডাঙ্গা সদর থানার আওতাধীন, তাই মামলাটি সদর থানায় রেকর্ড করা হয়েছে এবং আটককৃতদের সেখানে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।