মোঃ এরশাদ আলী, লংগদু প্রতিনিধি :
রাঙামাটির জেলার লংগদুতে ৪নং বগাচতর ইউনিয়নের গাউসপুর-ফরেস্ট টিলার সেতুটি মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। কাপ্তাই হ্রদের পূর্ব তীরের তিনটি ইউনিয়নের যোগাযোগ মাধ্যম উক্ত সেতুটি পুনঃনির্মাণ না হলে যেকোনো সময়ে ঘটতে পারে দূর্ঘটনা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার কোমলপ্রাণ শিক্ষার্থী সহ অফিসগামী হাজার হাজার মানুষ। এ যেন মরণকে আলিঙ্গন করার শামীল।
সূত্রমতে ৯০ দশকের শুরুর দিকে
উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের জন্য উক্ত সেতুটি নির্মাণ করা হলেও প্রতিনিয়ত বগাচতর,ভাসান্যা আদম ও গুলশাখালী ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ, স্কুল শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের জনগণের সুবিধার্থে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গাউসপুর -ফরেস্ট টিলা এলাকায় সেতুটি নির্মাণ করেছিল।
সেতু নির্মাণের তিনযুগ অতিবাহিত হলেও কোন সংস্কার /পুনঃনির্মাণ না হওয়ায় মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিগত বছর গুলোতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও পুনঃনির্মানের কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এক পর্যায়ে উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সংগঠন ও এলাকাবাসীর আন্দোলন, গণমাধ্যমে লেখালেখির পর সেতুটিতে সকল প্রকার যান চলাচল এবং পারাপার বন্ধ করে স্থানীয় প্রশাসন। তখন স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো সেতুটি নির্মাণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্ত দূঃখ জনক হলেও সত্য দীর্ঘদিন যানবাহন ও জনগণের চলাচল বন্ধ থাকলেও আবারও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত চলাচল শুরু হয়। জনগণের চলাচলের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর উপর দিয়ে চলছে মোটরবাইক, বাইসাইকেল সহ নানা ছোটঘাটো যান। এ যেন সাক্ষাত মৃত্যুকে আলিঙ্গন, মৃত্যুর পথে যাত্রা থামানোর কেউ নেই। এলাকার সচেতন মহল এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, সেতু নির্মাণ করার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের। আর স্থানীয়দের সচেতন হতে হবে যাতে দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা হয়। কিন্তু তারা কিভাবে এতোটা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে? প্রশাসনই বা কিভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে যাতায়াত করতে অনুমতি দিয়েছে? বড় ধরণের কোন দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার নিবে কে?
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেতুটি তৈরির জন্য তিন বছর আগে আশ্বাস দিলেও দীর্ঘ সময়েও নতুন সেতু নির্মিত হয়নি। বিষয়টি দুঃখজনক বটে।
কাপ্তাই হ্রদের তীরে এ জেলাটি রূপে গুণে অনন্য হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে। বিগত সরকারের পাহাড়ের আনাচে-কানাচে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দিতে বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, ভবন নির্মাণ করলেও স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা, জনপ্রতিনিধিদের পকেট প্রীতি- দুর্নীতি, পাহাড়ের উগ্রবাদী সশস্ব্র সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজিতে উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া উন্নয়নমূলক এসব কাজের রক্ষণাবেক্ষণ, সঠিক ব্যবহার, তদারকি ও সচেতনতার অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাইনী খালের প্রবল স্রোতে সেতুটির পিলারের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে নড়বরে হয়ে পড়েছে। দু'একটি পিলার ভেঙ্গে গেছে। দুই পাশেররেলিংও ভেঙ্গেছে অনেক আগেই। সেতুর পাটাতন থেকে কংক্রিটের ঢালাই গুলো জায়গায় জায়গায় উঠে গেছে। বলা যায় যোগাযোগের জন্য একেবারেই অনুপযোগী সেতু।
উপজেলা সদরের সাথে তিনটি পূর্ব পাড়ের তিনটি ইউনিয়নের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এই গাউসপুর সেতু। উক্ত তিনটি ইউনিয়নে প্রায় ৬৫ হাজারেও বেশি মানুষের বসবাস। এলাকাগুলোতে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। একটি বিজিবি’র জোন ও একটি পুলিশ ফাঁড়ী রয়েছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, সেতুটি পুনঃনির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।